সকালে ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় দাঁড়াতেই চোখের সামনে ভেসে উঠল বিশাল এক জোড়া রংধনু—এ দৃশ্য অনেকের কাছে স্বপ্নের মতো মনে হলেও যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে এটি বেশ পরিচিত ও নিয়মিত ঘটনা। এ কারণেই হাওয়াইকে বলা হয় ‘বিশ্বের রংধনু রাজধানী’।
হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টিভেন বুসিঙ্গার প্রথম এই উপাধি দেন। তাঁর গবেষণা অনুযায়ী, ঘন ঘন হালকা বৃষ্টি, পরিষ্কার আকাশ, বিশুদ্ধ বাতাস, সবুজ উপত্যকা এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে রংধনু সৃষ্টির আদর্শ পরিবেশ গড়ে উঠেছে হাওয়াইয়ে।
রংধনু দেখার আগ্রহ এতটাই বেশি যে, সেখানে ‘রংধনুচেজ’ নামে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপও চালু হয়েছে। অ্যাপটি আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে কোথায় রংধনু দেখা যেতে পারে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক তথ্য দেয়।
হাওয়াইয়ের আদিবাসী সংস্কৃতিতেও রংধনুর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। স্থানীয় পুরাণে একে স্বর্গ ও পৃথিবীর মধ্যে সংযোগের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
দ্বীপপুঞ্জের প্রায় সব স্থান থেকেই রংধনু দেখা গেলেও ওহাহুর মানোয়া উপত্যকা এবং বিগ আইল্যান্ডের রেনবো ফলস সবচেয়ে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম।
তবে হাওয়াইয়ের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলোর একটি হলো ‘মুনবো’ বা চন্দ্রধনু। পূর্ণিমার রাতে চাঁদের আলো বৃষ্টির ফোঁটায় প্রতিফলিত হয়ে যে বিরল আলোকচ্ছটা তৈরি করে, তা দর্শনার্থীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।