https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
একসময় ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর অডিশন থেকেই বাদ পড়েছিলেন ওডিশার জ্যোতির্ময়ী নায়েক। সেই প্রত্যাখ্যানকে পেছনে ফেলে ছয় বছর পর একই মঞ্চে চ্যাম্পিয়নের ট্রফি জিতে স্বপ্নপূরণ করলেন তিনি। ‘ইন্ডিয়ান আইডল ১৬’-এর গ্র্যান্ড ফিনালেতে তার হাতে ট্রফি তুলে দেন সংগীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল ও র্যাপার বাদশাহ।
শিরোপার পাশাপাশি জ্যোতির্ময়ী পেয়েছেন ২০ লাখ রুপি নগদ পুরস্কার। ফাইনালে তিনি অংশিকা চোনকার, মনরাজ বীর সিং, মাইস্কমে বসু, সুহাইল সুফি ও তনিষ্ক শুক্লাকে পেছনে ফেলে বিজয়ী হন।
ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জ্যোতির্ময়ী বলেন, এই প্রতিযোগিতা শুধু একটি রিয়েলিটি শো নয়, বরং তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। ওডিশায় প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে পরিচিতি থাকলেও নিজেকে জাতীয় পর্যায়ে নতুন করে প্রমাণ করতে তিনি এই মঞ্চে এসেছিলেন। তার ভাষায়, এ সিদ্ধান্তই ছিল জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত।
জ্যোতির্ময়ী জানান, ২০১৯ সালে প্রথমবার ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর অডিশনে অংশ নিয়েও বাদ পড়তে হয়েছিল তাকে। একই সময়ে কিংবদন্তি গায়ক উদিত নারায়ণের সঙ্গে প্রথম গান রেকর্ড করার সুযোগ পান। উদিত নারায়ণ সবসময় তাকে উৎসাহ দিয়েছেন এবং প্রতিবার শোতে এসে তার গানের প্রশংসা করেছেন।
ফাইনালে ওঠার পরও শিরোপা জয়ের আশা করেননি বলে জানান জ্যোতির্ময়ী। তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবেশনার পর শুধু ভাবতেন ভালো গাইতে পেরেছেন কি না। নিজের নাম বিজয়ী হিসেবে ঘোষণার মুহূর্তে তিনি এতটাই আবেগাপ্লুত ছিলেন যে কোনো বক্তব্যই প্রস্তুত ছিল না।
সংগীতের পাশাপাশি জ্যোতির্ময়ীর রয়েছে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে ডিগ্রি। পরে তিনি সংগীতভিত্তিক চিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন এবং ক্যানসার রোগীদের সঙ্গে কাজ করেন। তার বিশ্বাস, সংগীত শুধু বিনোদন নয়, মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও মানসিক শক্তি বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২০১৯ সালের ব্যর্থতা থেকে ২০২৬ সালের চ্যাম্পিয়ন হওয়া—জ্যোতির্ময়ী নায়েকের এই যাত্রা এখন অনেক তরুণ শিল্পীর জন্য অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের এক অনুপ্রেরণার গল্প।