ঢাকা
২৮ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
ওয়ানডে অধিনায়ক হচ্ছেন লিটন, দায়িত্ব হারাচ্ছেন মিরাজ গুমের দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, প্রকাশিত নতুন আইনের খসড়া মালয়েশিয়ায় সাড়ে ছয় মাসে আটক ৪১ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসী ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা, দেশের ৯ নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত ইরানে অভিযান স্থগিতের কারণ জানালেন ট্রাম্প যুগ্মসচিব পর্যায়ের ৩২ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার মস্তিষ্কের পাঁচ রোগ, চল্লিশের পর যেগুলো নিয়ে বাড়তি সতর্কতা বাজারের নাম নিয়ে ৬ ঘণ্টার সংঘর্ষে নিহত ১, বন্ধ ট্রেন চলাচল ভারত সীমান্তের কাছে ১১টি জে-২০ যুদ্ধবিমান মোতায়েন, নতুন উদ্বেগ পিপিপি মডেলে বিমান ও পর্যটন খাতের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের জোর

গুমের দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, প্রকাশিত নতুন আইনের খসড়া

ডেস্ক রিপোর্ট
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬   ২ বার পঠিত
গুমের দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, প্রকাশিত নতুন আইনের খসড়া

ছবি: -সংগৃহীত

দেশে গুমের ঘটনা প্রতিরোধ, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ‘গুম নিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬’-এর খসড়া প্রকাশ করেছে সরকার। প্রস্তাবিত আইনে গুমের ঘটনায় কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে অথবা নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ বছর পরও তার সন্ধান না মিললে দায়ী ব্যক্তির জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) জনমত ও অংশীজনদের মতামত গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আইনের খসড়াটি প্রকাশ করা হয়।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করার পর সেই তথ্য অস্বীকার করলে অথবা ওই ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি গোপন রাখলে তা গুম হিসেবে গণ্য হবে। তবে ব্যাপক বা পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত গুমের ঘটনা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় বিচার করা হবে।

প্রস্তাবিত আইনে গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা কমপক্ষে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর গুমের কারণে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে অথবা পাঁচ বছরের মধ্যেও তার সন্ধান না মিললে দায়ী ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া যাবে। একই সঙ্গে কমপক্ষে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।

কথিত ‘আয়নাঘর’ বা অন্য কোনো অননুমোদিত গোপন আটক কেন্দ্র নির্মাণ, পরিচালনা বা ব্যবহার করলে কমপক্ষে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই শাস্তি প্রযোজ্য হবে গুম-সংক্রান্ত কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও।

আইনে ‘কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জবাবদিহির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কোনো বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গুমের নির্দেশ দিলে কিংবা অধীনস্থদের এমন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জেনেও তা প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিলে তাকেও মূল অপরাধীর সমপরিমাণ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, জরুরি অবস্থা বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অজুহাতে গুমকে বৈধতা দেওয়ার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।

খসড়া অনুযায়ী, গুমের মামলার বিচার হবে দায়রা জজ আদালতে এবং বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে তা শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আদালত আরও ৩০ কার্যদিবস সময় বাড়াতে পারবেন। অপরাধ প্রমাণিত হলে দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ভুক্তভোগী বা তার পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, গুমের অভিযোগে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা করলে তার জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া গুমের ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে। সেখানে নিখোঁজ হওয়ার তারিখ, স্থান ও ঘটনার সম্ভাব্য কারণ সংরক্ষণ করা হবে, যাতে ভুক্তভোগী পরিবারের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করা যায়।