বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) শনিবার জানিয়েছে যে, সাইবেরিয়ার একটি প্লেগ-প্রতিরোধ গবেষণা কেন্দ্রে কর্মরত এক রুশ ল্যাব কর্মীর মৃত্যুর কারণ হিসেবে যে নিউমোনিয়া শনাক্ত হয়েছিল, তার প্রকৃত উৎস সম্পর্কে তারা এখনও নিশ্চিত নয়; তবে সেখানে প্লেগের কোনো সংক্রমণের ঘটনাও পাওয়া যায়নি।

সংস্থাটি জানায়, রাশিয়ার সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে যে, ওই ল্যাব কর্মী এবং তাঁর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শরীরে যেসব উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ জীবাণুর পরীক্ষা করা হয়েছে, তার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। এছাড়া, তাঁর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে এখনও কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি এবং গুরুতর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট রোগীর সন্ধানও পাওয়া যায়নি।

এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, “প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে… বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ঘটনার সাথে সম্পর্কিত কোনো চলমান সংক্রমণের প্রমাণ পায়নি। একটি প্রধান অনিশ্চয়তা হলো, মৃত ল্যাব কর্মীর ক্ষেত্রে রোগের কোনো নিশ্চিত রোগনির্ণয় বা ‘কনফার্মড ডায়াগনোসিস’ পাওয়া যায়নি।”

গত ২ অক্টোবর অজ্ঞাত পরিস্থিতিতে অসুস্থ হয়ে ওই ল্যাব কর্মীর মৃত্যু হয়। এর ফলে কর্তৃপক্ষ প্রায় ২০০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠায় এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে অজানা কারণে সৃষ্ট প্রাণঘাতী নিউমোনিয়ার ঘটনাগুলোর বিষয়ে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন; উল্লেখ্য, চীনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী শ্বাসতন্ত্রের রোগের প্রাদুর্ভাবের মাধ্যমেই সেই মহামারির সূচনা হয়েছিল। অনেক সময় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত নির্দিষ্ট কোনো রোগীর ক্ষেত্রে রোগের কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।

রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, ওই ল্যাব কর্মীকে যথাযথভাবে টিকা দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁর শরীরে এমন কোনো অণুজীব পাওয়া যায়নি যা তাঁর কাজের সাথে সম্পর্কিত।

বৃহস্পতিবার রাশিয়া জানিয়েছে যে, ওই কর্মীর সংস্পর্শে আসা সকলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রদান করা হয়েছে।