সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ঢাকা-রিয়াদ আকাশপথের যোগাযোগ। শনিবার রাত থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত রিয়াদগামী সাতটি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ২ হাজার ৫৩২ জন যাত্রী। তাঁদের অনেকেই সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি, যাঁদের কর্মস্থলে ফেরা এখন অনিশ্চিত।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, সৌদিয়া, রিয়াদ এয়ার ও শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস ও ব্যক্তিগত পরিবহনে ঢাকায় এসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন অনেক যাত্রী। কিন্তু বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবর পেয়ে তাঁদের নতুন করে যাত্রার পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। কবে সৌদি আরবে ফিরতে পারবেন, টিকিটের তারিখ কীভাবে পরিবর্তন করবেন, এসব নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তাঁরা।
রোববার দুপুরে বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের বাইরে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা যায়। কেউ টিকিট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে এয়ারলাইন্সের কাউন্টারে খোঁজ নিচ্ছেন, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে পরবর্তী করণীয় জানার চেষ্টা করছেন।
রিয়াদপ্রবাসী শাহ আলম জানান, রোববার দুপুরে তাঁর সৌদি আরবে যাওয়ার কথা ছিল। কেরানীগঞ্জের রোহিতপুর থেকে ঢাকায় এসে বিমান ধরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি।
শাহ আলম বলেন, ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তিনি বিপাকে পড়েছেন। সৌদি আরবে তাঁর কর্মস্থল রয়েছে। সময়মতো ফিরতে না পারলে কর্মক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। দ্রুত নতুন ফ্লাইটের সময় জানানো হলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শরীফ উদ্দিনেরও সৌদি আরবের রিয়াদে যাওয়ার কথা ছিল। ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের টিকিট কেটে মুম্বাই হয়ে রিয়াদে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর যাত্রাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
শরীফ উদ্দিন বলেন, মুম্বাই হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা থাকলেও ট্রানজিট ও ফ্লাইট বাতিলের খবর শুনে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। সরাসরি ফ্লাইট না পেয়ে বিকল্প পথ বেছে নিয়েছিলেন, কিন্তু এখন সেই পথেও যাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি ম্যানেজার (ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট) স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব জানান, বাতিল হওয়া সাতটি ফ্লাইটে মোট ২ হাজার ৫৩২ জন যাত্রীর রিয়াদে যাওয়ার কথা ছিল।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীদের ফ্লাইট বাতিলের বিষয়ে অবহিত করছে। পরবর্তী যাত্রার সময় ও টিকিট পরিবর্তনের বিষয়ে নিশ্চিত হতে যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে শনিবার রাতে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হতাহতদের মধ্যে বাংলাদেশিসহ মিশর, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সুদান, সিরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রয়েছেন।
হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দরে অন্তত চারবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার এক পাইলটসহ সৌদি আরবের তিন নাগরিক নিহত হন।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটে ফ্লাইট চলাচল কখন স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এতে প্রবাসী কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরা ছাড়াও তাঁদের অতিরিক্ত যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

মন্তব্য করুন