ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ক্রেমলিনের যুদ্ধকে আরও জোরদার করতে সহায়তা করেছে রাশিয়ার ডিজেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি—শনিবার এমনটাই মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মস্কোর কাছ থেকে জ্বালানি সরবরাহের একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি এ কথা বলেন।
অনলাইনে দেওয়া এক পোস্টে কাল্লাস বলেন, “দুই দিনে রাশিয়ার হামলায় ৮০ জনেরও বেশি ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া, ইউরোপের—অর্থাৎ ইইউ সদস্য রাষ্ট্র ও ন্যাটো মিত্রদের—বিরুদ্ধে রাশিয়া তার হাইব্রিড বা মিশ্র ধরনের আক্রমণ আরও তীব্র করেছে।”
তিনি আরও লেখেন, “রাশিয়ান ডিজেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার ফলে মস্কো যুদ্ধ চালানোর জন্য আরও বেশি অর্থ উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছে। রাশিয়ার ওপর চাপ কমানোর সময় এটি নয় এবং ইউরোপ তা করবে না।”
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মস্কোর ওপর আরোপিত যুদ্ধ-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পাশাপাশি ট্রাম্প শুক্রবার জানান যে, তিনি বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে রাশিয়ার সম্মতি আদায় করেছেন।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির তীব্র ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং ইইউ মস্কোর বিরুদ্ধে নিজেদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে ইইউ-এর নিষেধাজ্ঞার কালো তালিকায় আরও প্রায় ১,৬০০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করতে সোমবার বৈঠকে বসছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
কাল্লাসের বক্তব্যের বাইরে, ট্রাম্পের ডিজেল চুক্তির প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় কমিশন ইউক্রেন ও রাশিয়া—উভয় দেশের অবকাঠামোকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।
ইইউ-এর নির্বাহী সংস্থাটি বলেছে, “আমরা এখনও মনে করি যে, এমন একটি যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন যা বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহ এবং ইউক্রেন ও রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে সুরক্ষিত রাখবে।”
সংস্থাটি আরও যোগ করে: “রাশিয়ান হাইড্রোকার্বনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার যে গোপন বা পরোক্ষ মূল্য দিতে হয়, তা ইউরোপ খুব ভালোভাবেই জানে; আর তাই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধকে কোনোভাবেই উসকে দিতে চায় না ইউরোপ।”

মন্তব্য করুন