https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
জাপানের পর প্রতিবেশী নেপালও ভারত থেকে আমসহ কয়েকটি ফল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নেপালের কৃষি ও পশুপালন উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, আমদানিকৃত ফলের চালানে উচ্চমাত্রার কীটনাশকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে গত মাসে জাপানও ভারতীয় আম আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত করে। জাপানি কোয়ারেন্টাইন কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের শুরুতে ভারতের বিভিন্ন প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে পরিদর্শন চালিয়ে পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ ও জীবাণুনাশক ব্যবস্থায় ঘাটতি চিহ্নিত করে। এর ভিত্তিতে দেশটি আমদানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা দুই দশকের মধ্যে ভারতীয় আম রপ্তানির ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জাপানের পরিদর্শক দল গত মার্চে ভারতের উত্তর প্রদেশের একটি অঞ্চলে অবস্থিত প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে ধূমায়ন ও স্যানিটেশন ব্যবস্থায় ত্রুটি খুঁজে পায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই পরিস্থিতি ভারতের আম রপ্তানিকারকদের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে বৈশ্বিক বাজারে চলমান অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে।
নেপালের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞাটি এপ্রিল–মে মাস থেকে কার্যকর রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এতে আমের প্রধান মৌসুমে রপ্তানি কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ভারতের জনপ্রিয় আমের জাত যেমন আলফোনসো, দশেরি, চৌসা, কেসর, লেংড়া ও ভাঙ্গানাপল্লীর রপ্তানি সরবরাহ শৃঙ্খল প্রভাবিত হতে পারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো জানিয়েছে, পর্যাপ্ত পূর্বপ্রস্তুতি বা দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত পরিকল্পনা ছাড়াই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায় আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রমে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে তারা মনে করছেন, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন দিয়ে চাহিদা সম্পূর্ণ পূরণ করা নেপালের জন্য কঠিন হতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেপাল যদিও ভারতের আমের বড় রপ্তানি বাজার নয়, তবুও এই সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক ফল বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রক মানদণ্ড ও খাদ্য নিরাপত্তা ইস্যুর গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।