https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
বিশ্বকাপ শুরুর আগে শিরোপার সম্ভাব্য দাবিদারদের তালিকায় জার্মানির নাম খুব বেশি উচ্চারিত হয়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নিয়ে সংশয়ও ছিল যথেষ্ট। কিন্তু কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ গোলের দুর্দান্ত জয় সেই ধারণা বদলে দিতে শুরু করেছে। শুধু বড় ব্যবধানে জয় নয়, ম্যাচজুড়ে জার্মানির খেলায় এমন কিছু দিক ফুটে উঠেছে, যা তাদেরকে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনা করার যথেষ্ট কারণ তৈরি করেছে।
জার্মানির সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে তাদের সেট-পিস দক্ষতা। আধুনিক ফুটবলে কর্নার ও ফ্রি-কিক থেকে গোল করার সক্ষমতা অনেক সময় টুর্নামেন্টের ভাগ্য বদলে দেয়। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে নিকো শ্লটারবেকের গোলটি ছিল পরিকল্পিত সেট-পিস কৌশলের সফল বাস্তবায়ন। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ তাকে আটকে রাখার চেষ্টা করলেও নিখুঁত ডেলিভারিতে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায়। এই দিকটি নকআউট পর্বে জার্মানিকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
দলের অভিজ্ঞতার প্রতীক হয়ে আছেন ম্যানুয়েল নয়্যার। বয়স বাড়লেও তার উপস্থিতি এখনো জার্মান রক্ষণভাগের জন্য বড় ভরসা। কুরাসাও ম্যাচে তাকে খুব বেশি পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি, কিন্তু গোল হজমের মুহূর্তেও তার প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে কেন তিনি এখনও বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে বিবেচিত। বিশ্বকাপের মতো চাপের টুর্নামেন্টে এমন অভিজ্ঞতা অনেক সময় নির্ণায়ক হয়ে ওঠে।
আক্রমণভাগে জামাল মুসিয়ালার ছন্দে ফেরা জার্মানির জন্য আরেকটি বড় সুখবর। কয়েক মাস ধরে ফর্ম নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা এই তরুণ তারকা প্রথম ম্যাচেই নিজের সামর্থ্যের ঝলক দেখিয়েছেন। তার গতি, ড্রিবলিং এবং সৃজনশীলতা জার্মান আক্রমণকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বিশ্বকাপে একটি ভালো শুরু কোনো ফুটবলারের আত্মবিশ্বাস কতটা বাড়িয়ে দিতে পারে, তার উদাহরণ হতে পারেন মুসিয়ালা।
মাঝমাঠেও নতুন এক ভারসাম্যের ইঙ্গিত দিয়েছে জার্মানি। ফেলিক্স এনমেচা ও আলেকজান্ডার প্যাভলোভিচের সমন্বয় পুরো ম্যাচে নজর কেড়েছে। বলের দখল ধরে রাখা, দ্রুত পাস বিনিময় এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাদের উপস্থিতি জার্মানিকে আরও সংগঠিত ও পরিণত দল হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করছে।
এই দলের আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো গোল করার দায়িত্ব একক কোনো খেলোয়াড়ের কাঁধে সীমাবদ্ধ নয়। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ছয়জন ভিন্ন খেলোয়াড়ের নাম স্কোরশিটে ওঠা প্রমাণ করে, আক্রমণে জার্মানির বিকল্পের অভাব নেই। প্রতিপক্ষের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ একজনকে থামালেও অন্য কেউ ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে সক্ষম।
নতুন মুখ নাথানিয়েল ব্রাউনও প্রথম ম্যাচেই নিজের সম্ভাবনার জানান দিয়েছেন। অভিষেক ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি তিনি রক্ষণ ও আক্রমণ—দুই ক্ষেত্রেই আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। তরুণ এই ফুলব্যাকের উত্থান জার্মানির স্কোয়াডকে আরও গভীরতা দিয়েছে।
অন্যদিকে ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস গোল না পেলেও ম্যাচে তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সুযোগ তৈরি করা থেকে শুরু করে রক্ষণে নেমে এসে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভাঙা—সব জায়গাতেই ছিল তার উপস্থিতি। ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতা জার্মানির সামগ্রিক শক্তিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
একটি ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ জেতা যায় না, আবার একটি বড় জয় দিয়েও শিরোপা নিশ্চিত হয় না। তবু কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জার্মানির পারফরম্যান্স এমন একটি বার্তা দিয়েছে, যা উপেক্ষা করা কঠিন। অভিজ্ঞতা, তরুণ প্রতিভা, কৌশলগত শৃঙ্খলা এবং বহুমুখী আক্রমণ—সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে জার্মানি যে অনেক দূর যাওয়ার সামর্থ্য রাখে, তার শক্ত ইঙ্গিত মিলেছে প্রথম ম্যাচেই।