মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেছেন, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। এরপরও একটি মহল এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন জুলাই আন্দোলনে আহতদের দেখতে গিয়ে মঙ্গলবার তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতও উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী আহতদের চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত জুলাই যোদ্ধাদের সার্বিক তদারকি করছে। পাশাপাশি তাদের চিকিৎসা ও অন্যান্য ব্যয়ভারও বহন করা হচ্ছে। এছাড়া রাশিয়া, সিঙ্গাপুর ও তুরস্কে চিকিৎসাধীন আহতদের চিকিৎসা ও দেখভালের দায়িত্বও সরকার নিয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদফতর’ গঠন করা হয়েছে। এই অধিদফতর জুলাই যোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই, তালিকা প্রণয়ন, গেজেট প্রকাশ এবং শহীদ পরিবারের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এমআইএসভুক্ত জুলাই যোদ্ধার সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৬৯ জন এবং শহীদের সংখ্যা ৮৪৪ জন।
মন্ত্রী বলেন, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের এককালীন ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আহতদের অবস্থাভেদে এককালীন ৫ লাখ, ৩ লাখ ও ১ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং মাসিক ২০ হাজার, ১৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫২ জন আহত জুলাই যোদ্ধাকে রাশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও তুরস্কে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৯২ জন চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন এবং বর্তমানে ৬০ জন বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে পাওয়া ৩ হাজার ৪২৫টি আবেদনের মধ্যে ১ হাজার ৯৩৭ জনকে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের আওতায় আনতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।