https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
লাতিন আমেরিকার অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলা। রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা বিধ্বস্ত করে দেওয়া জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে দিনরাত কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। এখনও হাজারো মানুষের কোনো খোঁজ মিলছে না, ফলে মৃতের সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরকার জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে ২৩৫ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। তবে বুধবার কারাকাস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে মোট হতাহতের আনুষ্ঠানিক সংখ্যা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
বিরোধীদল-সমর্থিত নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনুসন্ধান ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৯ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে দেশি-বিদেশি উদ্ধারকারী দল। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা বিদ্যুৎবিহীন এলাকায় টর্চলাইটের আলো এবং অনেক ক্ষেত্রে খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সরকারি হিসাবে অন্তত ২৫০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আটটি হাসপাতাল, ভেনেজুয়েলান রেড ক্রসের ভবন এবং ফরাসি দূতাবাস। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি উপকূলীয় লা গুয়াইরা রাজ্য।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছাকাছি কারাবোবো রাজ্যের উপকূলীয় শহর মোরোনে অসংখ্য বাড়িঘর ধসে পড়েছে। সেখানে বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানির সংকটে পড়েছেন বাসিন্দারা। অনেক পরিবার ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, এই দুর্যোগে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। জরুরি আশ্রয়, খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ করছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।
উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা দিতে ইতোমধ্যে মেক্সিকোর সেনাবাহিনী ও অনুসন্ধানী কুকুরের দল ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশের ত্রাণবাহী বিমান মারাকাই ও ভ্যালেন্সিয়ার বিমানবন্দরে অবতরণ করছে। জাতিসংঘের ত্রাণ প্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন, ভূমিকম্পের আগেই দেশটিতে প্রায় ৮০ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন ছিল। নতুন এই দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে স্টারলিংক আগামী ২৫ জুলাই পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার নতুন ও পুরোনো গ্রাহকদের বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নতুন টার্মিনাল স্থাপনের কাজও শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
| S | M | T | W | T | F | S |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | ||
| 6 | 7 | 8 | 9 | 10 | 11 | 12 |
| 13 | 14 | 15 | 16 | 17 | 18 | 19 |
| 20 | 21 | 22 | 23 | 24 | 25 | 26 |
| 27 | 28 | 29 | 30 | |||