https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বৈঠকে বসছে না তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্টভাবে বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দোহায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার যে দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করেছেন, তা সঠিক নয়।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাঘাই বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিদলের কাতার সফরের সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিদলের দোহা সফরের কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে দুই দেশের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
তিনি জানান, বর্তমানে ইরানের প্রধান অগ্রাধিকার হলো সাম্প্রতিক সংঘাতের অবসান ঘটাতে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) অন্তর্ভুক্ত প্রতিশ্রুতিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে তেহরান সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের অনুরোধেই কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা হতে যাচ্ছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে সেই বক্তব্য দ্রুতই প্রত্যাখ্যান করা হয়।
সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় আলোচনা চলাকালে ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। ইরানের দাবি অনুযায়ী, ওই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত ইসরায়েলি ও মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ধারাবাহিক হামলা চালায়।
পরে বিভিন্ন পর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং উভয় পক্ষ একাধিক দফা আলোচনায় অংশ নেয়। সর্বশেষ ইরানের ১৪ দফা শর্তের ভিত্তিতে একটি সমঝোতা স্মারকে ভার্চুয়ালি সম্মত হয় দুই পক্ষ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সমঝোতার আওতায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে এবং এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া দেশটির জরুরি চিকিৎসা বিভাগের হিসাবে, সংঘাতে ১১৮ জন স্বাস্থ্যকর্মী আহত এবং ২৬ জন নিহত হয়েছেন।