বাংলা একাডেমির সভাপতি, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক ও গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার রাজধানীর মিরপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম গণমাধ্যমকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়ার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের জন্ম ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাকুন্দিয়া গ্রামে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেন এবং বাংলা ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে গবেষণা ও সমালোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্বও পালন করছিলেন। সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।

তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে মুক্তিসংগ্রাম (১৯৭২), কালের যাত্রার ধ্বনি (১৯৭৩), একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন (১৯৭৬), উনিশ শতকের মধ্যশ্রেণী ও বাংলা সাহিত্য (১৯৭৯), মানুষ ও তার পরিবেশ (১৯৮৮), সাহিত্যজিজ্ঞাসা: সাহিত্যসৃষ্টি ও সাহিত্যবিচার, জাতীয়তাবাদ, আন্তর্জাতিকতাবাদ, বিশ্বায়ন ও ভবিষ্যৎ, বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন ও উত্তরকাল, আধুনিকতাবাদ ও জীবনানন্দের জীবনোৎকণ্ঠা এবং বার্ট্রান্ড রাসেলের রাজনৈতিক আদর্শের বাংলা অনুবাদ। এছাড়া তিনি সংস্কৃতি গ্রন্থেরও রচয়িতা।

গবেষণা ও লেখালেখির পাশাপাশি সম্পাদক হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর নির্বাচিত প্রবন্ধ, ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং স্বদেশচিন্তাসহ একাধিক গ্রন্থ। এছাড়া তিনি সুন্দরম ও লোকায়ত নামে দুটি সাময়িকপত্র সম্পাদনা করেছেন।