২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচগুলোর একটি ছিল আর্জেন্টিনা ও মিসরের লড়াই। নাটকীয়ভাবে ৩-২ গোলে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল না ফলাফল, বরং রেফারিং ও ভিএআরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

একদিকে মোহাম্মদ সালাহর পেনাল্টির আবেদন নাকচ, অন্যদিকে মিসরের একটি গোল ভিএআরের সহায়তায় বাতিল—দুই সিদ্ধান্তই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সালাহর ঘটনায় কেন পেনাল্টি দেওয়া হয়নি?

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ এক মুহূর্তে আর্জেন্টিনার এক ডিফেন্ডারের সঙ্গে সংস্পর্শে পড়ে পেনাল্টির দাবি জানান মিসরের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ। তবে রেফারি খেলা চালিয়ে যেতে বলেন এবং ভিএআরও সিদ্ধান্ত বদলানোর প্রয়োজন মনে করেনি।

আন্তর্জাতিক রেফারি সাইমন সানির মতে, এটি পেনাল্টির মতো ঘটনা ছিল না। তার ব্যাখ্যায়, আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার প্রথমে বলে স্পর্শ করেছিলেন। এরপর বলটি সালাহর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং তিনি ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেন। পরে পায়ে সংস্পর্শ হলেও সেটি ফাউল হিসেবে গণ্য হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেনি।

তার মতে, বলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর সালাহ মূলত রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন।

কেন বাতিল হলো মিসরের গোল?

ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর মিসর আরেকটি গোল করে। সালাহর পাস থেকে মোস্তাফা জিকো বল জালে জড়ালে উৎসবে মেতে ওঠেন সতীর্থরা। কিন্তু ভিএআরের পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি।

রিপ্লেতে দেখা যায়, গোলের আগে আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় মিসরের এক খেলোয়াড় প্রতিপক্ষকে ফাউল করেছিলেন। সেই কারণেই পুরো আক্রমণটি অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং গোলটি বাতিল করা হয়।

সাইমন সানির মতে, এটিও ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত। কারণ আক্রমণ তৈরির শুরুতেই ফাউল সংঘটিত হয়েছিল, যা ভিএআরের পর্যালোচনার আওতায় পড়ে।

ভিএআরের সিদ্ধান্ত কি নিয়মসঙ্গত?

ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা আইএফএবির ‘লজ অব দ্য গেম’ অনুযায়ী, গোল হওয়ার আগে আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় যদি কোনো ফাউল, হ্যান্ডবল বা অফসাইড ঘটে, তাহলে ভিএআর সেটি পর্যালোচনা করতে পারে। প্রয়োজনে সেই অপরাধ শনাক্ত করে গোল বাতিলের সুপারিশও করতে পারে।

সে হিসেবে মিসরের গোল বাতিল এবং সালাহর পেনাল্টির আবেদন নাকচ—দুটি সিদ্ধান্তই ফুটবলের প্রচলিত আইন ও ভিএআর প্রোটোকলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, একই ধরনের ঘটনায় ভিন্ন ম্যাচে ভিন্ন সিদ্ধান্ত দেখা যাওয়ায় দর্শকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। যদিও সাইমন সানির মূল্যায়ন, এবারের বিশ্বকাপে কিছু বিতর্ক থাকলেও সামগ্রিকভাবে রেফারিংয়ের মান সন্তোষজনক এবং ফিফার নির্দেশনা অনুযায়ীই বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।