ঢাকা
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানবিক চিকিৎসাসেবাতেই ফিরবে মানুষের আস্থা : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬   ৪৪ বার পঠিত
মানবিক চিকিৎসাসেবাতেই ফিরবে মানুষের আস্থা : প্রধানমন্ত্রী

ছবি: -সংগৃহীত

রোগীদের প্রতি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক, মানবিক ও সহমর্মী আচরণ এবং সঠিক চিকিৎসাসেবাই দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্যখাতকে শক্তিশালী করতে চিকিৎসকদের সময়নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ এবং রোগীকেন্দ্রিক সেবার কোনো বিকল্প নেই।

শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

দেশের মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ায় প্রতিবছর প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অর্থ দেশের মধ্যেই রাখা সম্ভব, যদি চিকিৎসকরা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দক্ষতার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেন। তিনি বলেন, এটি আইন প্রয়োগ করে সম্ভব নয়; বরং চিকিৎসকদের আন্তরিকতা ও সঠিক চিকিৎসাই মানুষের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারে। এ কারণে চিকিৎসকদের প্রতি রোগীদের সঙ্গে আরও মানবিক আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও জোরদার করতে সরকার সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ৮০ শতাংশই নারী হবেন। তাঁরা পরিবারভিত্তিক স্বাস্থ্যপরামর্শ, মাতৃ ও শিশুসেবা, পুষ্টি, টিকাদান, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে জনগণের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবেন।

তিনি বলেন, একটি সুস্থ জাতি শুধু হাসপাতাল নির্মাণের মাধ্যমে গড়ে ওঠে না। পারিবারিক সচেতনতা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’—এই নীতিকে সামনে রেখেই সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দিতে চায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের ইতিহাসে এবারই স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ০২ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরে এ বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

তিনি বলেন, শুধু বাজেট বাড়ানো নয়, চিকিৎসা ব্যয় কমাতেও সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, হার্টের ভাল্ব, পেসমেকার, অক্সিজেনেটর, চোখের লেন্স এবং ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও কর কমানো হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে দেশের সব উপজেলা হাসপাতাল পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্তের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ উপজেলা হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা কম হওয়ায় রোগীদের শহরে যেতে হয়। এই চাপ কমাতে হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি হাসপাতালের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।

শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের বিশেষ উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বরিশাল ও রাজশাহীতে নির্মিত ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতালসহ মোট পাঁচটি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালু করা হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফসহ স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন শূন্যপদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে বিজ্ঞানসম্মত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিচ্ছন্ন হাসপাতাল গড়ে তোলা মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার অপরিহার্য অংশ। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ শুধু চিকিৎসক তৈরির প্রতিষ্ঠান নয়, বরং ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে এই প্রতিষ্ঠানের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে শুধু দক্ষ চিকিৎসকই নয়, গবেষক, শিক্ষক, সমাজনেতা ও মানবসেবায় নিবেদিত অসংখ্য মানুষ তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি শিক্ষক, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উন্মুক্ত মতবিনিময়ে অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজকে বিশ্বমানের গবেষণা, শিক্ষা ও চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

September 2026
SMTWTFS
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930