https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশকে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের করে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করাই সরকারের লক্ষ্য। কর্মসংস্থান ও সম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যেতে সরকার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদনমুখী উদ্যোগের ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনা এমনভাবে বাস্তবায়ন করা হবে যাতে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী ও টেকসই অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সরকার ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রতিবছর পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সারাদেশে ১০ হাজার নার্সারি গড়ে তোলা হবে, যার মাধ্যমে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, সরকার একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে, যেখানে প্রতিটি নাগরিক রাষ্ট্রীয় সেবা সহজভাবে পাবে। এ লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্পোর্টস কার্ডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন ধরনের সুবিধা ও সম্মানী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ১৩ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য প্রতিটি নাগরিকের জন্য সেবা ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত ও আধুনিক করা। ধাপে ধাপে বিভিন্ন ধরনের সেবাকে একটি ইউনিভার্সেল কার্ড-এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সরকার ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে এবং বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ভাষায় প্রশিক্ষণ ও সেবা কার্যক্রমও চালু করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে কোনোভাবেই জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হবে না। শহীদদের স্বপ্নের একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।