https://timenewsbangla.com

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় জাহাজের ভেতরে মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস শনাক্ত করেছে বিস্ফোরক অধিদপ্তর। প্রাথমিকভাবে এই বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বিস্ফোরক অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এসএম সাখাওয়াত হোসেন জানান, বহুগ্যাস শনাক্তকারী যন্ত্রের মাধ্যমে জাহাজের ভেতরে অতিরিক্ত মাত্রায় হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গ্যাসের উৎস ও দুর্ঘটনার অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি জানান, জাহাজের ভেতর থেকে গ্যাস অপসারণে পানি দিয়ে বদ্ধ অংশগুলো ধুয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাইড্রোজেন সালফাইড পানিতে দ্রবীভূত হয় বলে এ পদ্ধতিতে গ্যাস অপসারণ করা হবে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ওই ইয়ার্ডে পুরোনো একটি এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজ কাটার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তখন ইয়ার্ডে ৩৪ শ্রমিক ও কর্মচারী কাজ করছিলেন। জাহাজের ভেতরে দুই শ্রমিক অচেতন হয়ে পড়লে তাদের উদ্ধারে অন্যরা এগিয়ে যান। পরে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে একে একে ৯ জনের মৃত্যু হয়। কয়েকজন শ্রমিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতরা হলেন—মনসুর আহমেদ, নাসির উদ্দিন, সানি দাস, পলাশ দাস, রানা মিয়া, হাবিবুর রহমান, খোকন মিয়া, আব্দুল আলিম সুজন ও ১৭ বছর বয়সী মতিউর রহমান সাজ্জাদ। মনসুর ও নাসির সম্পর্কে দুই ভাই।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জাহাজের ইঞ্জিন রুমের একটি বদ্ধ ট্যাংক বা অংশে শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া বদ্ধ স্থানে প্রবেশ করায় প্রথমে দুই শ্রমিক এবং তাদের উদ্ধারে যাওয়া অন্য শ্রমিকেরা গ্যাসে আক্রান্ত হন।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আগেই জানিয়েছিলেন, জাহাজ কাটার আগে সেটিকে সম্পূর্ণ গ্যাসমুক্ত করা বাধ্যতামূলক। এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজের বিভিন্ন ট্যাংকে বিষাক্ত গ্যাস থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে গ্যাসমুক্ত না করেই জাহাজ কাটার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। ইয়ার্ডটির নিরাপত্তাব্যবস্থাকেও দুর্বল বলে উল্লেখ করা হয়।
তবে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরিদর্শনে অতিরিক্ত মাত্রায় হাইড্রোজেন সালফাইড শনাক্ত হওয়ায় এখন গ্যাসটির উৎস, কীভাবে এটি বদ্ধ স্থানে জমেছিল এবং জাহাজ কাটার আগে যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।