https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের গতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ইসরায়েলের সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত পুনরুদ্ধার করায় বিস্মিত তারা।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের মূল পর্ব শেষ হওয়ার পর ইরান যে দ্রুততায় নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করেছে, তা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের ধারণার চেয়েও বেশি। নতুন করে অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে ইরান বেশ কিছু বিকল্প ও সৃজনশীল পদ্ধতি ব্যবহার করছে বলেও মনে করছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।
২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সময় ইরানের হাতে প্রায় ১ হাজার ৩০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফের যুদ্ধ শুরুর সময় সেই সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৫০০-তে পৌঁছায় বলে জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ইরান প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত গতিতে অস্ত্র উৎপাদন করছে বলে দাবি করেছে ওই সংবাদমাধ্যম। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মূল্যায়নেও একই ধরনের চিত্র উঠে এসেছে।
গত মে মাসে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে যতটা সময় লাগবে বলে আগে ধারণা করা হয়েছিল, তার চেয়ে দ্রুত এগোচ্ছে দেশটি। মার্কিন গোয়েন্দাদের সে সময়ের মূল্যায়ন ছিল, ছয় মাসের মধ্যে ইরান ড্রোন হামলার সক্ষমতা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করতে পারে।
এদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপাদান চীন থেকে সরবরাহ অব্যাহত থাকার বিষয়েও উদ্বেগ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। সিএনএনের কাছে কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, চীন থেকে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিভিন্ন উপকরণ যাচ্ছে। তবে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ এ ধরনের সরবরাহ কিছুটা সীমিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইরানের দ্রুত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র মজুত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে কয়েকটি সূত্র দাবি করেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব এটিএসিএমএস ও নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়ে গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানে বড় ধরনের নতুন হামলা চালানোর প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রকে তুলনামূলকভাবে বোমারু বিমানের ওপর বেশি নির্ভর করতে হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।