https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ শনিবার (১৫ আগস্ট)। ১৯৪৫ সালের এই দিনে দিনাজপুরে ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদারের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর বাবার আদি বাড়ি ফেনীতে।
জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয় ও মসজিদে মিলাদ এবং দোয়া মাহফিল। আজ সকাল ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের এসব কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়া গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
মৃত্যুর সময় তাঁর পাশে ছিলেন বড় ছেলে ও বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান এবং প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি। পরিবারের অন্যান্য সদস্য, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা এবং চিকিৎসকরাও হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন।
খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। পাশাপাশি কিডনি, ফুসফুস, হৃদ্যন্ত্র ও চোখের জটিলতাও ছিল। হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণের পর গত বছরের ২৩ নভেম্বর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তাঁর চিকিৎসায় বাংলাদেশসহ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড কাজ করে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বিদেশে চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।
১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন খালেদা জিয়া। পরবর্তী সময়ে তিনি দলের ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালে চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পান।
খালেদা জিয়া ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিন দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান হিসেবে পরিচিত।
১৯৬০ সালে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালে তিনি ফার্স্টলেডি হিসেবে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নেন এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
খালেদা জিয়া দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি আন্দোলন, কারাবাস, মামলা ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নেতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
নির্বাচনী রাজনীতিতেও তাঁর রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি একাধিক আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনটি আসনেই জয় পান।