https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
বাংলাদেশে যেন আর কখনও ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের পুনরুত্থান না ঘটে এবং দেশ কোনোভাবেই পরনির্ভরশীল বা তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত না হয়—এ লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের (বাজেট অধিবেশন) সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ও বিরোধী দল মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও জাতীয় স্বার্থে ঐক্য বজায় রাখবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে। তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে মতের ভিন্নতা থাকবে, তবে তা কখনো শত্রুতা, প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতিতে পরিণত হওয়া উচিত নয়। ন্যায়পরায়ণতা ও গণতান্ত্রিক চর্চাই সংসদের মূল ভিত্তি হওয়া প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্বৈরাচারী শাসনামলে প্রতিবছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় ক্ষতির কারণ। তিনি বলেন, যেকোনো উপায়ে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও পেশাদার করে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ভাষণে তিনি সরকারের বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, কৃষকদের ঋণ মওকুফ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জনশক্তিকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর এবং কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিভিন্ন উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব সুবিধা রাষ্ট্রের দয়া নয়, বরং নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ঋণনির্ভর নয়, বরং বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়। তাঁর মতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদনশীল বিনিয়োগের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যুদ্ধাবস্থার মতো আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশ ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে এগোচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, ন্যায়ভিত্তিক সুযোগ সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে কাঙ্ক্ষিত উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতে স্বৈরাচার ও পরনির্ভরশীলতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে রাষ্ট্র এবং জনগণকে আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ সময় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বাজেট অধিবেশন সফলভাবে পরিচালনায় সম্পৃক্ত সংসদ সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার জন্য ডেপুটি স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
গত ৭ জুন শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন বুধবার সমাপ্ত হয়।