ঢাকা
২৯ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
প্রকল্পের সর্বোচ্চ উপযোগিতা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য : তথ্যমন্ত্রী চট্টগ্রামে চলন্ত প্রাইভেটকারে গুলি, কৌশলে প্রাণে বাঁচলেন ব্যবসায়ী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে স্বাগত জানাতে মুখিয়ে আছি : ভারতীয় হাইকমিশনার সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে একমত ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ও নেপালের রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে হাসিমুখে তাহসিন, উপহার পেলেন স্বাক্ষর করা বাস্কেটবল ও ড্রোন চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’ যশোর থেকে গ্রেপ্তার, আটক আরও ৫ শুটার ২১ নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করছে ইউএস-বাংলা, পূর্ণাঙ্গ এভিয়েশন গ্রুপ হওয়ার পথে সরোয়ার আলমগীরের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনে বাধা নেই, আপিল বিভাগের আদেশ নির্দিষ্ট মামলা না থাকলে শ্যোন অ্যারেস্ট নয়, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত সিআইডির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬   ২ বার পঠিত
সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: -সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ এবং সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বুধবার ঢাকায় ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। তাই কোনো নির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। তবে উভয় পক্ষই মত দিয়েছে যে পারস্পরিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এবং সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উচিত। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কিছু ‘অস্বস্তিকর বিষয়’ রয়েছে, যেগুলোর সমাধান হওয়া জরুরি। তিনি জানান, দুই পক্ষই এসব বিষয়ে অবগত এবং ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোর সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ বৈঠকে উঠেছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সৌজন্য সাক্ষাতে কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি। তবে ভবিষ্যতে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয় নিয়েই আলোচনা হবে।

ভারতের আমন্ত্রণে আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। সিদ্ধান্ত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর আরও কয়েকটি বিদেশ সফরের আমন্ত্রণ রয়েছে এবং একই সময়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও অংশ নেওয়ার সূচি থাকায় সব বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ড. খলিলুর রহমান বলেন, উভয় দেশই ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি একটি অনুসন্ধানমূলক সফর। বাংলাদেশ ও এর অগ্রাধিকার সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং রোহিঙ্গা শিবিরও পরিদর্শন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ কোনো আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো ধরনের চাপ অনুভব করছে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনোভাবেই ‘জিরো-সাম গেম’ নয়। একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার অর্থ অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি নয়। জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর অত্যন্ত সফল হয়েছে। একইভাবে ভারত সফরও দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলে সরকার আশা করছে।

অন্যদিকে, ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সাংবাদিকদের বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রথম বৈঠক অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে। সংস্কৃতি, সংগীত, ক্রীড়া ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আগামী দিনে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক হবে।