https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বড় বোনকে হারানো কিশোর তাহসিন আব্দুল্লাহ। বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাবা নাজমুল হককে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সে।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে দুই হাত বাড়িয়ে দেওয়া তাহসিনের হাসিমাখা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে প্রধানমন্ত্রী জানতে পারেন, সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর বেদনার গল্প।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক ঘটনায় বড় বোন তাসনিয়াকে হারায় তাহসিন। একই স্কুলে পড়লেও দুর্ঘটনার দিন তারা ভিন্ন ভবনে ছিল। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে বোনকে খুঁজতে ছুটে যায় তাহসিন। কারও কাছ থেকে স্যালাইন ও পানির প্রয়োজনের কথা শুনে ছোট্ট হাতে সেগুলো নিয়ে অপেক্ষা করলেও আর বোনকে ফিরে পায়নি।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর অনেকটাই বদলে যায় তাহসিন। এক হিলিং সেশনে সে লিখেছিল, “আমার কষ্ট অনেক। আমি আমার প্রিয় বোনকে হারিয়ে ফেলেছি। সে মারা গেছে। ওকে আমি অনেক অনেক মিস করি, ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।” এরপর দীর্ঘ সময় তার মুখে আগের মতো প্রাণখোলা হাসি দেখা যায়নি।
আর্মি স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে তোলা সেই ছবির পেছনের গল্প জানার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে তাহসিন ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাহসিনের এই সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাহসিনের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে তাহসিন জানায়, বড় হয়ে সে একজন সফল ব্যবসায়ী হতে চায়। পাশাপাশি এমন কিছু করতে চায়, যা মানুষের উপকারে আসবে এবং মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হবে।
তাহসিনের স্বপ্নের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী তাকে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা, নিয়মিত খেলাধুলা এবং লক্ষ্য অর্জনে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার পরামর্শ দেন। আলাপচারিতায় তাহসিন জানায়, তার সবচেয়ে প্রিয় খেলা ফুটবল। পরে প্রধানমন্ত্রী নিজের স্বাক্ষর করা একটি বাস্কেটবল ও একটি ড্রোনসেট উপহার হিসেবে তার হাতে তুলে দেন।
সাক্ষাৎ শেষে উচ্ছ্বসিত তাহসিন জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবার দেখা করতে পেরে সে খুবই আনন্দিত। এমন সুযোগ পাবে, তা কখনো ভাবেনি। স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের এই অভিজ্ঞতার গল্প শোনানোর জন্য সে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
এ সময় মাইলস্টোনের দুর্ঘটনায় সন্তান হারানো পরিবারটির প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।