https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ভারতে নতুন প্রজন্মের উদ্বেগ ও হতাশাকে সামনে এনে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে একটি ব্যঙ্গধর্মী সামাজিক–রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি, শিক্ষা সংকট ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের অভাব—এসব বিষয়কে হাস্যরস ও মিম সংস্কৃতির মাধ্যমে তুলে ধরে তারা তরুণদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছে।
মাত্র এক সপ্তাহের কম সময়ে ইনস্টাগ্রামে সিজেপির অনুসারী সংখ্যা প্রায় দেড় কোটিতে পৌঁছেছে, যা ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির অনুসারীর সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। তেলাপোকার প্রতীক ব্যবহার করা এই প্ল্যাটফর্ম নিজেদের “অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর” বলে পরিচয় দিচ্ছে।
৩০ বছর বয়সী প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত সম্প্রতি কিছু বেকার তরুণকে “তেলাপোকার মতো” বলে মন্তব্য করার পরই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামটি বেছে নেওয়া হয়। পরে অবশ্য বিচারপতি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি তরুণদের নয়, ভুয়া ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশ করে মন্তব্য করেছিলেন।
বর্তমানে বোস্টনে বসবাসরত দিপকে বলেন, ভারতের মূলধারার রাজনীতিতে তরুণদের সমস্যা প্রায় অনুপস্থিত। তাঁর মতে, সিজেপি মূলত সেই শূন্যতাকেই সামনে আনছে।
সিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্টে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, নারীদের জন্য সংসদে সংরক্ষিত আসন, শিক্ষাব্যবস্থার সংকট ও মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের মতো ইস্যু গুরুত্ব পাচ্ছে। সম্প্রতি জাতীয় মেডিক্যাল কলেজ ভর্তি পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় প্রায় ২৩ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও তারা জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।
একই সময়ে প্রকাশিত ডেলয়েট গ্লোবালের জরিপেও দেখা গেছে, ভারতের জেন-জি তরুণেরা বেকারত্ব, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় ও আর্থিক অনিশ্চয়তায় চাপে রয়েছে। আবাসন ব্যয় ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাহীনতা তাদের বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ ও নেপালে তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনের সঙ্গে সিজেপির তুলনা টানা হলেও দিপকে তা থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছেন। তিনি বলেন, তাঁদের কার্যক্রম পুরোপুরি সাংবিধানিক, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
ইতিমধ্যে গুগল ফর্মের মাধ্যমে চার লাখের বেশি মানুষ সদস্য হতে আবেদন করেছেন, যাদের অধিকাংশের বয়স ১৯ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।
সদস্য হওয়ার জন্য সিজেপি চারটি “যোগ্যতা” নির্ধারণ করেছে—বেকার হতে হবে, অলস হতে হবে, সব সময় অনলাইনে থাকতে হবে এবং ক্ষোভ প্রকাশে দক্ষ হতে হবে। ব্যঙ্গাত্মক এই ভাষাই তরুণদের মধ্যে দলটির জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়েছে।
লক্ষ্ণৌর ২৬ বছর বয়সী সদস্য সিদ্ধার্থ কানৌজিয়া বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম তরুণদের প্রকৃত সমস্যাগুলো তুলে ধরছে। তাঁর মতে, তেলাপোকা এখানে সহনশীলতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকার প্রতীক।