জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে গিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক, উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান ও কূটনৈতিক তৎপরতায় কাটছে তাঁর সময়।
২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পরদিনই শুরু হয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত কর্মসূচি। ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া প্রাতঃরাশ সভায় যোগ দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে অংশ নেন তিনি।
দিনভর ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহাম্মদ লতিফ, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিল্স-এমে এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এবং মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হয়। সন্ধ্যায় বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান।
২৩ সেপ্টেম্বর তাঁর কর্মসূচিতে গুরুত্ব পাবে রোহিঙ্গা সংকট, মানবিক সহযোগিতা ও জলবায়ু পরিবর্তন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি সাইড ইভেন্টে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। একই দিনে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সঙ্গে বৈঠক এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও ন্যায্য রূপান্তর নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ২৪ সেপ্টেম্বর। এদিন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেবেন তিনি। নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। বিকেলের অধিবেশনে ১৮ জন বক্তার মধ্যে তিনি ১১তম বক্তা হিসেবে প্রায় ১৫ মিনিট বক্তব্য রাখবেন।
জাতিসংঘের ভাষণে বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবিক সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সমস্যার মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। একই দিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ছাড়ার আগে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেপি মরগান আয়োজিত বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। একই দিনে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। পরে নিউইয়র্ক সময় রাত ১১টায় দুবাই হয়ে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

মন্তব্য করুন