নাগরিক সেবা আরও সহজ ও আধুনিক করতে আবেদনকারীর বাসায় সরাসরি পাসপোর্ট পৌঁছে দেওয়ার (হোম ডেলিভারি) উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে স্টিকার ভিসার পরিবর্তে অনলাইন ভিসা (ই-ভিসা) ব্যবস্থা চালু এবং ইমিগ্রেশন সেবার ব্যাপক আধুনিকায়নের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পাসপোর্ট হোম ডেলিভারি চালুর জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন চেয়ে ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার ইউরো (প্রায় ১২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা) ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পাসপোর্ট একটি সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় নথি হওয়ায় হোম ডেলিভারিতে পরিচয় যাচাই, নিরাপদ হস্তান্তর এবং প্রতিটি ধাপ ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে, যাতে ভুল ব্যক্তির হাতে পাসপোর্ট পৌঁছানোর সুযোগ না থাকে।

ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে প্রচলিত স্টিকার ভিসার পরিবর্তে অনলাইন ভিসা সিস্টেম, বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য ই-ট্রাভেল পারমিট, এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে ১২১টি নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পাসপোর্ট অধিদপ্তরে নতুন জনবল নিয়োগ এবং কুমিল্লার গৌরীপুরে একটি নতুন পাসপোর্ট প্রসেসিং সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পাসপোর্ট, ভিসা ও ইমিগ্রেশন সেবা আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে। তবে এর সফল বাস্তবায়নে সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং শক্তিশালী আইনগত কাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।