https://timenewsbangla.com

ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->
নেটফ্লিক্সের সিরিজ ‘মুসাফির ক্যাফে’-তে অভিনয় করে আলোচনায় এসেছেন তরুণ অভিনেত্রী মহিমা মাকওয়ানা। তবে তার সাফল্যের পেছনে রয়েছে দারিদ্র্য, সংগ্রাম ও কঠিন শৈশবের এক দীর্ঘ গল্প।
মহিমার জন্মের মাত্র পাঁচ মাস পরই তার বাবা মারা যান। এরপর মা ও ভাইকে নিয়ে মুম্বাইয়ের একটি ছোট চাওলে বড় হয়েছেন তিনি। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তার মা, যিনি একসময় অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।
পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে মাত্র নয় বছর বয়সে অভিনয়ের অডিশন দেওয়া শুরু করেন মহিমা। স্কুল শেষে এক অডিশন থেকে আরেক অডিশনে ছুটে বেড়ানোই ছিল তার নিত্যদিনের জীবন। নিয়মিত স্কুলে যাওয়ার সুযোগও হয়নি; অনেক সময় শুধু পরীক্ষার দিনই উপস্থিত থাকতে পারতেন।
শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করার সময় একবার একটি ধারাবাহিকের সেটে সংলাপ বলতে গিয়ে ভুল করায় পরিচালকের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। সেই অপমানই তাকে আরও কঠোর পরিশ্রমে অনুপ্রাণিত করে। পরে মহিমা বলেন, ওই ঘটনাই তাকে বুঝিয়ে দেয় যে এই পেশায় টিকে থাকতে প্রতিভার পাশাপাশি নিরলস পরিশ্রমও প্রয়োজন।
টেলিভিশনে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর মাত্র ১৪ বছর বয়সেই পরিবারের জন্য মুম্বাইয়ের মীরা রোড এলাকায় প্রথম বাড়ি কিনেছিলেন মহিমা। একই সময় নিজের প্রথম গাড়িও কেনেন তিনি। যে পরিবার একসময় ভাড়াবাড়িতে থাকত, তাদের জন্য এটি ছিল স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত।
তবে ছোট পর্দায় সফল হলেও বড় পর্দা ও ওটিটিতে জায়গা করে নেওয়া সহজ ছিল না। বহু অডিশনে ব্যর্থ হয়েছেন, অনেক প্রকল্প শেষ মুহূর্তে হাতছাড়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় তাকে শুধু ‘টেলিভিশনের অভিনেত্রী’ হিসেবেই দেখা হয়েছে। সেই পরিচয়ের গণ্ডি ভাঙতে বছরের পর বছর লড়াই করতে হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন ভাষার সিনেমা ও ওয়েব সিরিজে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করেন মহিমা। সম্প্রতি ‘মুসাফির ক্যাফে’ সিরিজে তার অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বর্তমানে মুম্বাইয়ে নিজের দ্বিতীয় বাড়িতে মায়ের সঙ্গে বসবাস করছেন এই অভিনেত্রী। তবে জীবনের সব অর্জনের মাঝেও একটি আক্ষেপ আজও রয়ে গেছে। বাবাকে কখনো দেখার সুযোগ পাননি তিনি। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে মহিমা বলেছেন, বন্ধুদের বাবার সঙ্গে সম্পর্ক দেখে তার মনে হয়, জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুভূতি তিনি কখনোই অনুভব করতে পারেননি।