https://timenewsbangla.com

ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->
হৃদরোগের ঝুঁকি বলতে অনেকেই ধূমপান, স্থূলতা বা উচ্চ কোলেস্টেরলকে দায়ী করেন। তবে দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ অভ্যাসও ধীরে ধীরে হৃদপিণ্ডের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এসব অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডেস্কে কাজ করা, গাড়ি চালানো বা টিভি দেখা রক্তসঞ্চালন কমিয়ে দেয়। এতে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। প্রতি ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পরপর উঠে কয়েক মিনিট হাঁটা বা শরীর নড়াচড়া করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
নিয়মিত সাত ঘণ্টার কম ঘুম রক্তচাপ বাড়াতে, শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করতে এবং রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। সুস্থ হৃদযন্ত্রের জন্য প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ভালো মানের ঘুম জরুরি।
প্যাকেটজাত খাবার, আচার, সস ও প্রক্রিয়াজাত খাবারে লুকিয়ে থাকে অতিরিক্ত সোডিয়াম। এটি শরীরে পানি জমিয়ে রক্তচাপ বাড়ায় এবং হৃদপিণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। খাবারে লবণের পরিবর্তে লেবু, ভেষজ ও বিভিন্ন মসলা ব্যবহার করা যেতে পারে।
দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত খাওয়া, ধূমপান বা অন্যান্য অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের প্রবণতাও বাড়ায়। হাঁটা, যোগব্যায়াম, ধ্যান বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক।
সফট ড্রিংকস, এনার্জি ড্রিংকস, মিষ্টি ফলের রস কিংবা অতিরিক্ত চিনি দেওয়া চা-কফি ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এর পরিবর্তে পানি, ডাবের পানি, চিনি ছাড়া চা বা ঘোল বেছে নেওয়া ভালো।
নিয়মিত শরীরচর্চা না করলে হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে এবং উচ্চ রক্তচাপ ও অস্বাভাবিক কোলেস্টেরলের ঝুঁকি বাড়ে। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম—যেমন দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার বা নাচ—হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই দেখা দেয়। তাই জটিলতা এড়াতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
সুস্থ হৃদযন্ত্রের জন্য ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।