https://timenewsbangla.com

প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৮ বছর পর অবশেষে পূর্ণাঙ্গতার পথে এগোচ্ছে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ। দীর্ঘদিনের নানা জটিলতা কাটিয়ে কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতালসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজ এখন জোরেশোরে চলছে।
হাসপাতাল ভবনের পাশাপাশি ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভবন, নার্সিং ডরমিটরি, কলেজ ভবন, স্টাফ কোয়ার্টার, মসজিদসহ মোট ২৬টি স্থাপনার নির্মাণকাজ চলছে। এসব অবকাঠামো চালু হলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত কক্সবাজারের প্রায় ২৮ লাখ বাসিন্দা এবং বিপুলসংখ্যক পর্যটক উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি পূর্ণতা পেলে পর্যটননগরীর স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ৬ মে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তবে আর্থিকসহ নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবির পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে পরিবর্তন এনে হাসপাতাল ভবনসহ আরও ২৬টি স্থাপনার নির্মাণকাজ শুরু হয়। গত এক বছরে কয়েকটি ভবন বহুতল হয়েছে এবং হাসপাতাল ভবনের প্রথম তলার কাঠামোও দৃশ্যমান হয়েছে।
এরই মধ্যে অবকাঠামো ও জনবলের ঘাটতি পূরণ করে কলেজটিকে পূর্ণাঙ্গ করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে শুক্রবার (৭ আগস্ট) নির্মাণাধীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের নামে এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। উদ্বোধনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল ভবন বাস্তবায়িত না হওয়ায় তার অনুরোধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে। এ কারণেই ভিত্তিপ্রস্তরটি তার নামে স্থাপিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে জেলা সদর হাসপাতালের একটি ভবনে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের যাত্রা শুরু হয়। কলেজের তৃতীয় অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. রেজাউল করিমের দায়িত্বকালে ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি অস্থায়ী পরিসর থেকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয়।
ইতোমধ্যে কলেজটির ১৮টি ব্যাচ অতিক্রম করেছে এবং ১৪টি এমবিবিএস ব্যাচ চিকিৎসক হিসেবে বের হয়েছে। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত ফাইনাল পেশাগত পরীক্ষায় কলেজটি প্রথম হওয়ার সাফল্য অর্জন করেছে। প্রতিবছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংকট ও অনিশ্চয়তা কাটেনি।
বিশেষ করে ৫০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল না থাকায় শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের জন্য নিয়মিত প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরের ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে হয়। এতে সময় ও ভোগান্তি দুটিই বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, এই যাতায়াতের কারণে একজন শিক্ষার্থীর বছরে প্রায় ৫৯৮ ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে।
নির্মাণাধীন ৫০০ শয্যার হাসপাতালসহ ২৬টি স্থাপনার কাজ শেষ হলে দীর্ঘদিনের এই সংকট দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে একদিকে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে কক্সবাজারের বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটক আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।