https://timenewsbangla.com

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার মধ্যেই নতুন করে অবস্থান জানিয়েছে মিয়ানমার। দেশটির দাবি, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো তালিকার যাচাই করা প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে এলে তাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত তারা।
১৫ আগস্ট মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। তবে একই সঙ্গে বাংলাদেশে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে সংকটের প্রচলিত আন্তর্জাতিক বর্ণনাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে নেপিডো।
মিয়ানমারের দাবি, বাংলাদেশ থেকে পাওয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকার মধ্যে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক চাপ ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে মিয়ানমারের এই বক্তব্য কেবল প্রত্যাবাসনের আগ্রহ প্রকাশ নয়, বরং নিজেদের কূটনৈতিক অবস্থান শক্ত করার কৌশলও হতে পারে। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান মামলার প্রেক্ষাপটে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে চাইছে দেশটি।
মিয়ানমার জানিয়েছে, রাখাইনের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে যাচাই করা ব্যক্তিদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে ফেরত নেওয়া হবে। তবে নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শুধু প্রত্যাবাসনের ঘোষণা বাস্তব সমাধান আনবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের অবস্থানও স্পষ্ট—রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হতে হবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে। অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে মিয়ানমারের নতুন ঘোষণাকে সতর্কতার সঙ্গে দেখছে ঢাকা।
বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে তালিকা যাচাই ও নানা শর্তের মাধ্যমে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করেছে মিয়ানমার। ফলে এবারও ঘোষণার চেয়ে বাস্তবে কতজন রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয় এবং তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করে, সেটিই হবে মূল বিষয়।