ঢাকা
১৯ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ ও সম্পর্ক নিয়ে যা জানাল ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬   ৯ বার পঠিত
বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ ও সম্পর্ক নিয়ে যা জানাল ভারত

ছবি: -সংগৃহীত

বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় ভারত। একই সঙ্গে বাংলাদেশে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধও সক্ষমতা ও নিজস্ব প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ভারত। পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাভাবিক জ্বালানি সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, বিষয়টি ভারতের সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও কোনো নতুন তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন ভারতের এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দেশটি সফরের জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।

এর মধ্যেই তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন ভারতের সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বিদ্যা ভূষণ সোনি। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই সফর হলে ঢাকা-নয়াদিল্লির মধ্যে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও সমঝোতার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সোনির মতে, তিস্তার পানি বণ্টন দুই দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয়। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানেও বাংলাদেশ ভারতের আরও সক্রিয় ভূমিকা চাইতে পারে।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার সুযোগ রয়েছে নয়াদিল্লির। তারেক রহমানের সফরের মাধ্যমে এ বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চাওয়ার একটি কার্যকর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্ব নিয়েও আশাবাদ প্রকাশ করেন সোনি। তার ভাষ্য, তারেক রহমান তুলনামূলকভাবে বেশি খোলামেলা এবং তিনি ভারতবিরোধী নন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি ভারতের বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য দেননি বলেও দাবি করেন এই সাবেক কূটনীতিক।

তার মতে, দুই দেশের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন মতপার্থক্য থাকলেও রাজনৈতিক পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ এখনো রয়েছে। তাই তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত।

সোনি সতর্ক করে বলেন, এই সুযোগ কাজে লাগানো না গেলে ঢাকা-নয়াদিল্লির মধ্যে নতুন করে যোগাযোগের পথ দীর্ঘ সময়ের জন্য সংকুচিত হয়ে যেতে পারে। তাই উভয় দেশেরই বর্তমান সুযোগটি কাজে লাগিয়ে সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নেওয়া উচিত।

August 2026
SMTWTFS
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031