https://timenewsbangla.com

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের কারণে তৈরি জটিলতা কাটিয়ে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে বিভিন্ন পণ্য প্রবেশে বাধা, বন্ধ স্থলবন্দর চালু, বিদ্যমান বাণিজ্যিক সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক বাণিজ্য পরিবেশ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। তিনি আশা করেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।
দুই দেশের ভৌগোলিক নৈকট্যকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বিশেষ করে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ঘিরে যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
বৈঠকে ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের ভিসা জটিলতার বিষয়টিও উঠে আসে। নিয়মিত যাতায়াতকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ভিসা ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
এদিকে অবকাঠামো ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে দুটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সিআইআই। এর একটি অবকাঠামো খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়াবে। অন্যটি সেমিকন্ডাক্টর, সবুজ হাইড্রোজেন, ব্যাটারি সংরক্ষণ ও তথ্যকেন্দ্রের মতো ভবিষ্যৎমুখী শিল্পে সহযোগিতা নিয়ে কাজ করবে।
সিআইআই বাংলাদেশের স্থানীয় উৎপাদনশীল শিল্প পুনরুজ্জীবন, জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারে শুল্ক কাঠামো সমন্বয় এবং দ্রুত পণ্য পরিবহনের ওপরও গুরুত্ব দেয়। ঢাকার আশপাশে সাবান, গৃহস্থালি পরিচর্যা পণ্য ও সুগন্ধি উৎপাদনে সমন্বিত কারখানা স্থাপনের আগ্রহও প্রকাশ করেছে ভারতীয় ব্যবসায়ী সংগঠনটি।
বৈঠকে বাংলাদেশি তরুণদের ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবিশের সুযোগ এবং বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের তৃতীয় দেশে কাজের ক্ষেত্রে ভিসা জটিলতা কমানোর বিষয়েও সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়। উভয় পক্ষই ব্যবসায়ী পর্যায়ে সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেয়।