https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, প্রণালিটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে।
সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, অবরোধের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার ধারণাটিও তার পছন্দের বলে জানান তিনি। এর আগে শুক্রবার লং আইল্যান্ডের এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি বলেছিলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করবেন।
তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিপরীতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানের শীর্ষ বক্তা ও মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, সমঝোতা স্মারকে যুক্তরাষ্ট্র যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।
ইরানের দাবি, গত জুনে দুই দেশের চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বিদেশে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
এর মধ্যেই মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, এতে জাহাজটির ইঞ্জিন রুম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একজন নাবিক হতাহত হন। পরে ওমান কোস্ট গার্ড অন্য নাবিকদের উদ্ধারে সহায়তা করে।
সংকট নিরসনে ওমানের সঙ্গে ইরানের আলোচনা চললেও ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা নির্ধারিত নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দাবি করেছেন, নৌ অবরোধ পুরোপুরি বহাল রয়েছে, হরমুজ প্রণালি সচল রয়েছে এবং পানির সব মাইন সরিয়ে নেওয়া বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি এই দাবিতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।