ঢাকা
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিরোধের অবসান, ইসলামী রীতিতে দাফন বিল্লালের

জেলা প্রতিনিধি
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬   ৩ বার পঠিত
ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিরোধের অবসান, ইসলামী রীতিতে দাফন বিল্লালের

ছবি: -সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় গুলিতে নিহত শুভ চন্দ্র দাস ওরফে বিল্লাল হোসেনের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার অবসান হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী জানাজা শেষে রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

পুলিশ জানায়, লাশ হস্তান্তরের সময় নিহতের মা, স্ত্রী ও ভাই দাবি করেন, শুভ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিল্লাল হোসেন নাম ধারণ করেছিলেন। তবে তার বাবা তাকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী হিসেবে দাবি করেন। এ নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হলে কয়েক দিন লাশ হিমঘরে রাখা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম জানান, ২০০৩ সালে শুভর মা ও বাবার বিচ্ছেদের পর মা সন্তানদের নিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে শুভর নাম পরিবর্তন করে বিল্লাল হোসেন রাখা হয়। তার ভাই সজীবের নামও পরিবর্তন করে ইব্রাহিম এবং মা ও বোনের নাম আয়েশা রাখা হয়। বিল্লাল মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন এবং ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী জ্যোতিকে বিয়ে করেন। তাদের দুই বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।

নিহতের স্ত্রী জ্যোতি হাইকোর্টে রিট করলে ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মুহাম্মদ ইকবাল কবির ও বিচারপতি সাইফুল ইসলামের বেঞ্চ লাশটি তার কাছে হস্তান্তর এবং ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী দাফনের নির্দেশ দেন। পরে আদালতের আদেশ অনুযায়ী লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১টার দিকে চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটের পেছনে শুভকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি গুলির খোসা ও ১০০টি ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন, সিয়াম আহমেদ সিজান ও সোহানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে হত্যাকাণ্ডে ১০-১২ জনের একটি দলের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। পরে সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনও উদ্ধার করা হয়।

দাফন শেষে নিহতের মা আয়েশা বেগম ছেলের হত্যার বিচার দাবি করে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান। তিনি বলেন, নয় দিন ধরে লাশ দাফন করতে না পেরে তারা হয়রানির শিকার হয়েছেন। আদালতের নির্দেশের পর অবশেষে ছেলেকে দাফন করতে পেরেছেন।

September 2026
SMTWTFS
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930