https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে ঘুষ, নিয়োগ-পদায়ন বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও অর্থপাচারের অভিযোগে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ। তিনি জানান, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আগের অভিযোগের অনুসন্ধানও চলমান রয়েছে। নতুন অভিযোগগুলো আগের অনুসন্ধানের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত করা হবে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, নতুন অভিযোগের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নিয়োগ ও পদায়ন, বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক নিয়োগে অর্থ লেনদেন, বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের টেন্ডার থেকে কমিশন গ্রহণ এবং বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে পাঁচ দেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাৎ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়ম, বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ঘুষ গ্রহণ এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগে আসিফ মাহমুদের স্বজন ও সহযোগীদের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার এবং ঠিকাদারি কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের কথাও বলা হয়েছে।
এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি, কেনাকাটাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এ অনুসন্ধানে উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। অন্যদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন ও উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।
দুদকের অনুসন্ধানের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসিফ মাহমুদ অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দুদকের অনুসন্ধান দুর্নীতি উদ্ঘাটনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও ‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ অংশ।
দুদক জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুসন্ধান চলছে।