ইসরায়েলে হামাসের ৭ অক্টোবর, ২০২৩-এর হামলার তৃতীয় বার্ষিকীর প্রাক্কালে, সোমবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে গুতেরেস বলেন, “এখন সময় এসেছে যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী করার। এখন সময় এসেছে ব্যাপক পরিসরে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ করে দেওয়ার। এবং এখন সময় এসেছে আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান জানানোর।” তিনি পুরো অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য একটি “রাজনৈতিক পথ” তৈরির আহ্বানও জানান।
গুতেরেস বলেন, “এই বার্ষিকীটি যেন কেবল আরও একটি শোকের বছর হিসেবে চিহ্নিত না হয়, বরং একটি ভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ার নতুন সংকল্পের প্রতীক হয়ে ওঠে—এমন এক ভবিষ্যৎ যেখানে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিরা শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে পাশাপাশি বসবাস করতে পারবে এবং তাদের অধিকার, মর্যাদা ও আকাঙ্ক্ষাগুলো পূরণ হবে।”
জাতিসংঘের প্রধান বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রাণহানির বিষয়টি স্বীকার করেন এবং হামাসের হামলাকে “ঘৃণ্য” বলে অভিহিত করেন; কারণ এই হামলায় “১,২০০-এর বেশি ইসরায়েলি ও বিদেশি নাগরিক” নিহত হন এবং আরও ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়।
গুতেরেস আরও উল্লেখ করেন যে, গাজার ফিলিস্তিনিরা “ব্যাপক প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি ও ধ্বংসযজ্ঞের” শিকার হয়েছে, তবে তিনি তাদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করেননি। গুতেরেস বলেন, “তাদের এই দুর্ভোগেরও এখনই অবসান হওয়া প্রয়োজন।”
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানে ৭৪,২০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। হামাসের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরিসংখ্যানকে জাতিসংঘ নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে।
গুতেরেস স্বীকার করেন যে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতি “কিছুটা স্বস্তি এনেছিল। কিন্তু তা নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা কিংবা পুনরুদ্ধার ও শান্তির কোনো বিশ্বাসযোগ্য পথ নিশ্চিত করতে পারেনি।”
ইসরায়েল, যারা এখনও গাজার অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।
অন্যদিকে হামাস তাদের অস্ত্রভাণ্ডার তাৎক্ষণিক ও একতরফাভাবে সমর্পণ করার পরিবর্তে ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে মত দিয়েছে।
২০২৩ সালের হামলার পর থেকে ইসরায়েল একাধিক ফ্রন্টে সামরিক অভিযান চালিয়েছে; এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হিজবুল্লাহর (তেহরান-সমর্থিত ইসলামপন্থী গোষ্ঠী) মোকাবিলায় দক্ষিণ লেবাননে আগ্রাসন চালানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা।

মন্তব্য করুন