যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া সাতটি শর্ত পূরণ না হলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবে না ইরান। শর্তগুলো বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রকে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই এ অবস্থানের কথা জানান।

একই দিন ইরাকের টেলিভিশন চ্যানেল আল ইখবারিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, তেহরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে। তবে এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের শর্তগুলো মেনে নিতে হবে।

আরাগচির দাবি, ওয়াশিংটন শর্তগুলোতে সম্মতি জানিয়েছে। তবে এর সঙ্গে আরও কিছু বিষয় যুক্ত করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত পাঠিয়েছিল ইরান। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দেওয়া জবাবকে অপর্যাপ্ত বলে মন্তব্য করেছেন রেজাই। তাঁর মতে, আলোচনায় অগ্রগতির জন্য ওয়াশিংটনকে আগে আস্থা পুনর্গঠনের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকেও একই অবস্থান তুলে ধরেন ইরানের এই কর্মকর্তা।

এদিকে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার মার্কিন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছেন রেজাই। তিনি বলেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের এক গ্রামও ইরান থেকে সরানো হবে না। এসব পারমাণবিক উপাদান ইরানের জনগণের সম্পদ এবং দেশের অভ্যন্তরেই ব্যবহার করা হবে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালিটি বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারে প্রভাব পড়তে পারে।

পারমাণবিক কর্মসূচি, নৌ অবরোধ এবং পারস্পরিক আস্থার সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মতপার্থক্য অব্যাহত রয়েছে। তেহরানের সাত দিনের সময়সীমার মধ্যে এসব বিষয়ে সমঝোতা হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।