মিয়ানমারের বন্দী নেত্রী অং সান সু চিকে দুটি বই ও একটি সিলগালা করা চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দেশটির সামরিক সরকারের কর্মকর্তারা সু চির হাতে উপহারগুলো পৌঁছে দেন। এ সময়ের কিছু ছবিও প্রকাশ করেছে মিয়ানমার সরকার।

৮১ বছর বয়সী সু চি ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে তাঁর সরকার উৎখাত হওয়ার পর থেকে আটক রয়েছেন। বিভিন্ন অভিযোগে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গত জুনে তাঁকে গৃহবন্দি করা হয় বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

সু চিকে দেওয়া বই দুটি হলো ব্রিটিশ উদ্যানবিদ ব্রিজেট এলওয়ার্দি ও হেনরিয়েটা কোর্টাউল্ডের লেখা ‘সয়েল টু টেবিল’ এবং গত বছর লন্ডনে আয়োজিত একটি প্রদর্শনীর ক্যাটালগ ‘সয়েল: দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাট আওয়ার ফিট’।

প্রথম বইটিতে মাটি ও মানুষের খাদ্যের মধ্যে সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। কারাগারে থাকা অবস্থায় সু চি ধর্ম ও প্রকৃতিবিষয়ক বইসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন বলে জানা যায়।

মিয়ানমারে অহিংস গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ১৯৯১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান সু চি। তবে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর তাঁর আটকাবস্থা এবং দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

সোমবার প্রকাশিত ছবিতে সু চিকে হালকা সবুজ রঙের ঐতিহ্যবাহী বার্মিজ ব্লাউজ ও জলপাই রঙের স্কার্ট পরা অবস্থায় একটি টেবিলে বসে থাকতে দেখা যায়। তাঁর সামনে সাদা শার্ট পরা দুজন পুরুষ ছিলেন। তবে সাক্ষাতে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। বিবৃতিতেও সু চির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।

এদিকে, সামরিক অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইং সম্প্রতি দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন তিনি।

গত আগস্টে মিয়ানমার সরকার আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির এক প্রতিনিধির সঙ্গে সু চির সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করেছিল। এর আগে ছেলে কিম অ্যারিসকে লেখা চিঠির আড়াই বছর পর সেটিই ছিল তাঁর সঙ্গে বিদেশি যোগাযোগের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। লন্ডনভিত্তিক কিম দীর্ঘদিন ধরে মায়ের মুক্তির দাবিতে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।