সিআইসির অনুসন্ধান অনুযায়ী, দুই প্রতিষ্ঠানের মোট রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ ১০২ কোটি ৫৭ লাখ ১৩ হাজার ১২৮ টাকা। এর মধ্যে রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকা এবং লিশা টেক্সের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮ টাকা ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রিয়াজ নিটওয়্যার ৪১টি ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশনের (ইউডি) বিপরীতে বন্ড সুবিধায় ২ হাজার ৮৬২ টন ওভেন পলিয়েস্টার কাপড় আমদানি করে। কিন্তু কারখানার গুদামে এর প্রায় ৭৮ শতাংশ বা ২ হাজার ২৩৭ টন কাপড় পাওয়া যায়নি। সিআইসির ধারণা, এসব কাপড় অবৈধভাবে খোলা বাজারে বিক্রি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বেশি শুল্ক-কর ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, লিশা টেক্সের গুদামে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার কেজি পলিয়েস্টার কাপড়ের হদিস পাওয়া যায়নি। এসব কাপড় খোলা বাজারে বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে রপ্তানিমূল্য কম দেখানো, অনুমোদনের শর্ত ভঙ্গ, স্থানীয় বাজার থেকে কাঁচামাল কেনার ক্ষেত্রে অনিয়ম এবং মূল্য সংযোজনের বাধ্যবাধকতা না মানার তথ্য পাওয়া গেছে।
সিআইসির অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, অনুমোদন ও মূসক পরিশোধ ছাড়াই চার লাখের বেশি পিস পোশাকের আনুষঙ্গিক কাঁচামাল স্থানীয় বাজার থেকে কেনা হয়েছে। পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার কিট ব্যাগ সরবরাহের মাধ্যমেও মূসক ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এনবিআরের এ অনুসন্ধানে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য দেওয়া শুল্কমুক্ত সুবিধার অপপ্রয়োগের বিষয়টি সামনে এসেছে।

মন্তব্য করুন