https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে পুরোপুরি নিষিদ্ধ হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালত নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কি না, সেটি নির্ধারিত হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। দলটি মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল কি না, সেই বিচার শেষে আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে।
তিনি বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকা পর্যন্ত সন্ত্রাস দমন আইন, ২০০৯-এর আওতায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। ফলে দলটি বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন বা সংগঠিতভাবে মাঠে নামার চেষ্টা করলে তা আইন লঙ্ঘনের শামিল হবে এবং আইন অনুযায়ী সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ বর্তমানে সীমিত। বিচারাধীন অবস্থায় দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকায় তাদের যেকোনো প্রকাশ্য কর্মসূচি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির আওতায় থাকবে।
একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য কতটা উপযোগী— এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা ও সাংবিধানিক কাঠামো রয়েছে। কোনো দল যদি সেই কাঠামো ও মৌলিক গণতান্ত্রিক মানদণ্ড লঙ্ঘন করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ থাকে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশেও আইন ও সাংবিধানিক কাঠামোর পরিপন্থী কার্যক্রমের অভিযোগে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈধতা নিয়ে বিচারিক পর্যালোচনা হয়েছে। বাংলাদেশেও আওয়ামী লীগের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত হবে, তা আদালতের রায়ের ভিত্তিতেই হবে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো দলের জনপ্রিয়তা বা জনসমর্থন বিচারিক প্রক্রিয়ার বিকল্প হতে পারে না। আইনের শাসন ও বিচারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এ ধরনের বিষয় নির্ধারিত হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বিষয় এবং সরকার সেই বিচারিক প্রক্রিয়াকে সম্মান করবে।