https://timenewsbangla.com

রংপুর নগরের কামালকাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় পরিচয় ফাঁসের আশঙ্কা থেকে পরিকল্পিতভাবে ওই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে দেখাতে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
আটক দুজন হলেন সিদ্ধার্থ দাস (১৯) ও মুগ্ধ দাস (২৩)। তারা পরস্পরের মামাতো-ফুফাতো ভাই এবং নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির আশপাশেই বসবাস করেন। রবিবার ভোরে রংপুর নগরের দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
রবিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিভিন্ন আলামত এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়।
তদন্তে পুলিশের নজরে আসে বেশ কিছু অস্বাভাবিক আলামত। বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া যায়। এ ছাড়া ফ্রিজ থেকে বের করে খাওয়া শসার অর্ধেক অংশ এবং খেজুরের বিচি পড়ে ছিল। ঘরে পাওয়া একটি সোনার চুড়ি আগুন দিয়ে পরীক্ষা করার চেষ্টার আলামতও তদন্তকারীদের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দেয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর নির্মাণাধীন বাড়ির তৃতীয় তলার ছাদে ওঠেন। সেখানে তারা ইয়াবা সেবন করছিলেন। শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গিয়ে তাদের বাধা দেন। এ সময় নিজেদের পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় তাঁর গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়।
গণপতির চিৎকার শুনে তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকেও সিঁড়িতে হত্যা করা হয়। পরে মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ছাদে উঠতে গেলে তাঁকেও হত্যা করা হয়। এরপর ঘরে থাকা ১৩ বছর বয়সী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে এবং বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ কমিশনারের দাবি, চারজনকে হত্যার পরও দুই যুবক কিছু সময় বাড়িতে অবস্থান করেন। তারা সেখানে গোসল করেন, ফ্রিজ থেকে খেজুর ও শসা খেয়ে আবার ইয়াবা সেবন করেন। পরদিন শুক্রবার জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা হলে তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।
বের হওয়ার আগে তারা আলমারি ও ড্রয়ার খুলে কাপড়সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ঘরের মধ্যে ছড়িয়ে দেন। এতে ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে মনে করছে পুলিশ।
তদন্তকারীরা আরও জানান, নিহত পরিবারের দুটি মোবাইল ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছিল। আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে এমনটি করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা পুলিশের। ঘর থেকে উদ্ধার করা খেজুরের বিচি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আটক দুজন জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেখানো একটি পরিত্যক্ত জায়গা থেকে নিহত পরিবারের লুট হওয়া স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার রাতে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুই দিন যোগাযোগ না হওয়ায় এক স্বজন বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি সন্দেহ করেন। পরে পুলিশ বাড়ির তালা ভেঙে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।