হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স দ্বিতীয়বারের মতো খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে মাজার প্রাঙ্গণে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে এই কার্যক্রম শুরু হয়।
মাদ্রাসার অন্তত ৪০ জন শিক্ষার্থী দানের অর্থ গণনার কাজে অংশ নেন। মাজারের ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগ সিলগালা খুলে সেখানকার অর্থ বস্তাবন্দি করে মসজিদসংলগ্ন মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে প্রকাশ্যেই টাকা গণনা শুরু হয়। পুরো এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা পরিষদ প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এর আগে গত ২২ জুন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের দানের অর্থ গণনা করা হয়। সে সময় মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়, যা পরে সোনালী ব্যাংকে খোলা একটি নতুন হিসাবে জমা রাখা হয়।
গত বৃহস্পতিবার সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির বৈঠকে দ্বিতীয় দফায় দানবাক্সের অর্থ গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের আলোকেই শনিবারের এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গত ১২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম প্রথম উদ্যোগ নেন। পরে ১৮ জুন মাজার প্রাঙ্গণে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন এবং দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত তিনটি ঐতিহাসিক দানের ডেগ ও দানবাক্স সিলগালা করা হয়।
এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এর মধ্যেই ২১ জুন সারওয়ার আলমকে জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরদিন তাঁর উদ্যোগেই প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দানের অর্থ গণনা করা হয়।
পরবর্তী সময়ে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে গত ২৬ জুন ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে আধুনিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।
প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে এবার দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্সের অর্থ গণনা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন