https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে, আন্তর্জাতিক সীমান্তঘেঁষা সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ছোট্ট আদিবাসী গ্রাম ঝুঁমগাঁও যেন প্রকৃতির আঁচলে মোড়ানো এক অনন্য সৌন্দর্যের ঠিকানা। পাখির কলতান, সবুজ পাহাড়, ফুলে সাজানো রাস্তা, শতবর্ষী মাটির ঘর আর নির্মল পরিবেশের কারণে গ্রামটি এখন পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০ ফুট উঁচু টিলার ওপর অবস্থিত ঝুঁমগাঁওয়ে উঠতে হয় সিঁড়ি বেয়ে। গ্রামে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে দুই পাশজুড়ে ফুল, পাতাবাহার ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে ঘেরা পাকা রাস্তা। উত্তর-পশ্চিমে মেঘালয় পাহাড় আর দক্ষিণ-পূর্বে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত— এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য সহজেই মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় এই এলাকা ছিল বন্য প্রাণীর অভয়াশ্রম। পরে হাজং সম্প্রদায়ের বসতি গড়ে উঠলেও নানা কারণে তারা ভারতে চলে যান। এরপরও কয়েক দফায় বসতি পরিবর্তনের পর ১৯৭৫ সালে কয়েকটি গারো পরিবার এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। বর্তমানে প্রায় ৪০টি আদিবাসী পরিবার ঝুঁমগাঁওয়ে বসবাস করছে।
নামের সঙ্গে মিল না থাকলেও এখানে কোনো জুমচাষ হয় না। তবে গ্রামের প্রতিটি বাড়ির সামনে রয়েছে ফুল ও ফলের বাগান। লেবু, জাম্বুরা, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলদ গাছের পাশাপাশি বারান্দাজুড়ে টবে সাজানো থাকে রঙিন পাহাড়ি ফুল। প্রায় ৪০০ মিটার দীর্ঘ গ্রামের সড়কজুড়ে রয়েছে ফুলের বাগান, যা পুরো গ্রামকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রার সৌন্দর্য।
গ্রামের শেষ প্রান্তে আন্তর্জাতিক সীমান্তের জিরো পয়েন্টে দাঁড়ালে হাত বাড়ালেই যেন ছোঁয়া যায় মেঘালয়ের মেঘ। দিন-রাত শোনা যায় ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর পাখির কূজন। পুরো গ্রামে নেই ময়লা-আবর্জনার কোনো চিহ্ন, যা এটিকে দেশের অন্যতম পরিচ্ছন্ন আদিবাসী গ্রামে পরিণত করেছে।