https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
চীনের অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংস্কার এনে দেশটিকে ‘বিশ্বের কারখানা’ হিসেবে গড়ে তোলার অন্যতম রূপকার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজি মারা গেছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে বেইজিংয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঝু রংজির মৃত্যু হয়।
১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে রাষ্ট্রীয় শিল্পে ব্যাপক সংস্কার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করার উদ্যোগ নেন ঝু। তার সময়ে চীন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) যোগ দেয়, যা দেশটির বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষ ও লাভজনক করতে গিয়ে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির রক্ষণশীল অংশ এবং সরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিরোধিতার মুখে পড়েন। সংস্কারের ফলে লাখ লাখ মানুষ চাকরি হারালেও এসব পদক্ষেপ চীনের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি শক্ত করে।
১৯৯০-এর দশকে উপপ্রধানমন্ত্রী থাকাকালে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ঝু। লোকসানি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঋণ বন্ধ এবং বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপ নিয়ে তিনি পরিচিতি পান।
ঝু রংজি ১৯২৮ সালের ২৩ অক্টোবর হুনান প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৭ সালে বিদেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রশংসা করায় তাকে ‘ডানপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং দীর্ঘ সময় রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েন। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় তাকে গ্রামে শ্রমে পাঠানো হয়। ১৯৭৯ সালে পুনর্বাসনের পর দ্রুত রাজনৈতিক উত্থান ঘটে তার।
১৯৮৮ সালে সাংহাইয়ের মেয়র এবং পরে উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৯৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর কঠোর ও সরাসরি কথা বলার ধরন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন, ব্যক্তিগত আবাসন খাত সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে দেশটির অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে তার ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি অনেকটা জনসম্মুখের আড়ালে চলে যান।