https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
শিশু বয়সে বাবার সঙ্গে পাকিস্তানে গিয়ে হারিয়ে গিয়েছিলেন মোহাম্মদ ফরিদ। এরপর কেটে গেছে প্রায় ৩৫ বছর। দীর্ঘ এই সময়ে পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না। অবশেষে তুরস্ক থেকে দেশে ফেরার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই তার পরিবারের সন্ধান পেয়েছে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।
মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৫টায় তুরস্ক থেকে ঢাকায় ফেরেন ফরিদ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক থেকে তাকে আশকোনার ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে নেওয়া হয়। ফরিদ নিজের নাম, বাবা-মায়ের নামসহ কয়েকটি বিচ্ছিন্ন তথ্য দিতে পারলেও ভালোভাবে বাংলায় কথা বলতে পারছিলেন না।
তার কাছ থেকে পাওয়া সীমিত তথ্যের ভিত্তিতে ব্র্যাক কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য ছড়িয়ে দেন এবং কক্সবাজারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয়দের সহযোগিতা নেন। শেষ পর্যন্ত বিকেলেই কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা পালং ইউনিয়নের নাছির পাড়ায় তার পরিবারের সন্ধান মেলে।
ফরিদ জানান, প্রায় ১০ বছর বয়সে বাবা মো. আয়ুব আলীর সঙ্গে জাহাজে করে পাকিস্তানে যান। সেখানে কোনো এক সময় তার দুই পা কেটে যায়। প্রায় ১০ বছর পাকিস্তানে থাকার পর দালালরা তাকে সড়কপথে তুরস্কে নিয়ে যায়। এরপর পরিবারের সঙ্গে পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ফরিদ তাদের চার সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে। তার বাবা বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থান করছেন। ফরিদের ভাই ছৈয়দ আলমকে দ্রুত ঢাকায় এনে তার সঙ্গে দেখা করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরপর তাকে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, ৩৫ বছর পর একজন মায়ের কাছে তার সন্তান এবং একজন ভাইয়ের কাছে তার ভাইকে ফিরিয়ে দিতে পারা অত্যন্ত মানবিক ও আনন্দের ঘটনা।