https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে কোনো দেশ ইরানকে অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিকভাবে সহায়তা করলে তাদেরও কঠোর অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ইরানকে চুক্তিতে রাজি করাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অনেক সুযোগ ও ছাড় দেওয়া হলেও দেশটি তাতে সাড়া দেয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের বিরুদ্ধে এমন একটি অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করা হবে, যা আগের যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের চেয়ে বেশি কঠোর হবে।
ট্রাম্পের ঘোষিত অভিযানের আওতায় ইরানের সঙ্গে তেল চোরাচালান, পণ্য বিনিময়, নগদ অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রা বিনিময়, জাহাজ নিবন্ধন এবং ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার মতো কার্যক্রম বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেছেন, কোনো দেশের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক কার্যক্রম, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থা ইরানকে সহযোগিতা করলে সেই দেশকেও গুরুতর অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হবে। তবে পোস্টে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করেননি ট্রাম্প। ইঙ্গিত করা দেশগুলো বিষয়টি বুঝতে পেরেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
চীন, ভারত, তুরস্ক, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, সামনে একটি সর্বাত্মক অর্থনৈতিক যুদ্ধ অপেক্ষা করছে। ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন ও পরাজিত করতে মিত্র দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ইরান কখনো পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না বলেও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটির বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ৫ মে অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করার ঘোষণা দেওয়া হলেও এরপরও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাত পুরোপুরি থামেনি। এ সময়ে দুই দফা যুদ্ধবিরতিও হয়েছে।