ঢাকা
২০ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম

প্রাথমিকে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬   ১৭ বার পঠিত
প্রাথমিকে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু

ছবি: -সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কাটিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম পিটিআইয়ের কনফারেন্স রুমে দিনব্যাপী এক কর্মশালা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পর সহকারী শিক্ষকদের যেসব পদ শূন্য হবে, সেসব পদেও নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, প্রতি বছর ১৪ থেকে ১৫ হাজার নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ ছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের শূন্য পদগুলোও দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিবন্ধন ছাড়া চলবে না কিন্ডারগার্টেন

বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের নিবন্ধনের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিবন্ধন ছাড়া কোনো কিন্ডারগার্টেন বা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না।

নিবন্ধনের সুযোগ সহজ করার পরও কোনো প্রতিষ্ঠান তা গ্রহণ না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কার্যকর মনিটরিংয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন মনিটরিং নীতিমালায় বিদ্যালয়ের আয়তন ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় নেওয়া হবে। ছোট পরিসরে বিদ্যালয় পরিচালনা করলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংখ্যাও নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে।

শিগগির পূরণ হবে শূন্য পদ

প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনার মাঠপর্যায়ে জনবল থাকলেও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, ইউপিটিসি ইন্সট্রাক্টর ও পিটিআই ইন্সট্রাক্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে শূন্যতা রয়েছে। আইনি জটিলতার কারণে কিছু নিয়োগ ও পদায়ন আটকে থাকলেও শিগগির এসব পদ পূরণ করা হবে বলে জানান ববি হাজ্জাজ।

২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ছয় হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। রায় পাওয়া গেলে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও উচ্চতর গ্রেডের বিষয়েও নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, শুধু চাকরির মেয়াদের ভিত্তিতে পদোন্নতি বা বেতন স্কেল উন্নয়নের পরিবর্তে নিয়মিত মূল্যায়নের ভিত্তিতে এসব বিষয় নির্ধারণের ব্যবস্থা করা হবে।

১০ মাসের প্রশিক্ষণ কমে হবে দুই মাস

প্রাথমিক শিক্ষকদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের সময়ও কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পিটিআইয়ে ১০ মাসের ইন-ক্যাম্পাস প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও তা কমিয়ে দুই মাস করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি প্রশিক্ষণ কর্মস্থলে কাজের পাশাপাশি ‘অন দ্য জব’ পদ্ধতিতে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

প্রাথমিকের পরিমার্জিত কারিকুলামে সক্রিয়ভাবে শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। খেলা ও গল্পের মাধ্যমে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানের মতো বিষয় শেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য স্কুল ক্যালেন্ডারেও পরিবর্তন আনা হবে এবং এক ও দুই শিফটের বিদ্যালয়ের জন্য আলাদা পরিকল্পনা করা হবে।

এ ছাড়া প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির শিশুদের জন্য বড় মাঠের পরিবর্তে ছোট ও শিশুদের উপযোগী খেলার জায়গাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের পরিবেশ, মূল্যায়ন ও পাঠদান পদ্ধতিতে পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষায় সামগ্রিক সংস্কারের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

August 2026
SMTWTFS
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031