https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় অর্থবাহী একটি গাড়ি থামিয়ে ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় চক্রটির পরিকল্পনা থেকে শুরু করে টাকা ভাগাভাগির বিস্তারিত তথ্য পেয়েছে র্যাব। এ ঘটনায় চক্রের মূলহোতা জলিল মোল্লাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ডাকাতির ৪৮ লাখ টাকা।
র্যাব জানিয়েছে, ডিএল ফিলিং স্টেশন থেকে ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য নিয়মিত বড় অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়—এই তথ্যই ছিল ডাকাতদের মূল টার্গেট। ফিলিং স্টেশনে যাতায়াতের সূত্রে চক্রের এক সদস্য জানতে পারেন, প্রতি সপ্তাহে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকে পাঠানো হয়। পরে সেই তথ্য পৌঁছে যায় ডাকাত দলের কাছে।
গত ৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ১ কোটি ২১ লাখ টাকা নিয়ে একটি ছোট লাল কাভার্ড ভ্যান ফিলিং স্টেশন থেকে বের হলে শুরু হয় পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। বিমানবন্দর থানার ক্রাউন প্লাজার সামনে পৌঁছানোর পর তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা সশস্ত্র ডাকাতরা গাড়িটির পথরোধ করে। পিস্তল ও চাপাতি দেখিয়ে তারা টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে মূল পরিকল্পনাকারী হাকিম, তথ্যদাতা কাউসার ও ডাকাতির মূলহোতা জলিল মোল্লা ঘটনাস্থল ঘুরে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। ডাকাতির দিনও ফিলিং স্টেশনের কাছে অবস্থান করছিলেন দলের একজন তথ্যদাতা। তিনি মোবাইল ফোনে কাভার্ড ভ্যানটি কখন টাকা নিয়ে বের হচ্ছে, সেই তথ্য সরাসরি ডাকাতদের জানিয়ে দেন।
ডাকাতির পর ১ কোটি ২১ লাখ টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় চক্রটি। সবচেয়ে বড় অংশ, প্রায় ৫৩ লাখ টাকা রাখেন মূলহোতা জলিল মোল্লা। তার সহযোগী সাগর বড়াই পান প্রায় ১৪ লাখ টাকা। তথ্যদাতা মুস্তাফিজের ভাগেও যায় প্রায় ১৪ লাখ টাকা। অন্য সদস্যদের কেউ ১০ লাখ, কেউ এর কাছাকাছি অর্থ পান।
তবে ডাকাতির পর বেশিদিন অর্থ ভোগ করতে পারেনি চক্রটি। তদন্তের একপর্যায়ে গত ১৬ আগস্ট রাতে মূল পরিকল্পনাকারী হাকিমকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তার কাছ থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি, পুলিশের হ্যান্ডকাফ ও ওয়্যারলেস সেট উদ্ধার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন উত্তরা থেকে কাউসারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে ১৮ আগস্ট রাতে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই এলাকা থেকে জলিল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আশুলিয়ার চারভাগ মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৩ লাখ টাকার মধ্যে ৪৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাবের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে জলিল ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। প্রায় আড়াই মাস আগে মতিঝিলে ১৭ লাখ টাকার ডলার ডাকাতির ঘটনাতেও তার চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে ডাকাতির বাকি টাকা ও পলাতক সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। ফলে ১ কোটি ২১ লাখ টাকার এই ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার ও উদ্ধার—দুটিই আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।