https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, পরিস্থিতি এখনো উচ্চ ঝুঁকির পর্যায়ে রয়েছে।
১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে ৫৭৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৫৭ জনের বেশি শিশুর প্রাণহানি ঘটছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ প্রাদুর্ভাবের সর্বশেষ সপ্তাহেও ৫৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
ডব্লিউএইচওর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যা কিছুটা কমলেও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী এবং মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৭৩২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে ঈদের দীর্ঘ ছুটির কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি মূল্যায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দিয়ে প্রাদুর্ভাবের প্রকৃত চিত্র নির্ণয় করা যথাযথ নয়। সীমিত পরীক্ষা ও দুর্বল নজরদারি ব্যবস্থার কারণে অনেক সংক্রমণ শনাক্তের বাইরে থেকে যেতে পারে। এ অবস্থায় মৃত্যুর প্রবণতাকেই পরিস্থিতি মূল্যায়নের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর সেই সূচক অনুযায়ী এখনো পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৫ সালে শিশুদের নিয়মিত টিকাদানে বিঘ্ন, পুষ্টিহীনতা এবং ভিটামিন এ ক্যাপসুল কর্মসূচি যথাযথভাবে পরিচালিত না হওয়া বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে মে মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ হাজারের কাছাকাছি মানুষ হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে মৃত্যুর সংখ্যাও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত এপ্রিল থেকে বিভিন্ন ধাপে টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হলেও রোগটি ইতোমধ্যে দেশের সব জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, অতীতে অনুসৃত বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়ার কার্যকর পদ্ধতি এবার যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। পাশাপাশি আক্রান্তদের চিকিৎসা ও রোগ ব্যবস্থাপনায়ও ঘাটতি রয়ে গেছে। ফলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
ঈদের ছুটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের ঢাকা ত্যাগের ফলে সংক্রমণ গ্রামীণ এলাকাগুলোতে আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সচেতনতামূলক প্রচারণা না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাঁদের সতর্কবার্তা, বর্তমান অবহেলা ও উদাসীনতা অব্যাহত থাকলে হামের প্রাদুর্ভাব আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে।