https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
চীনের তিন শীর্ষ এয়ারলাইনস—এয়ার চায়না, শেনজেন এয়ারলাইনস ও হাইনান এয়ারলাইনস—ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে মোট ৯৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে। সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, এসব চুক্তির মোট তালিকামূল্য প্রায় ১৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
সবচেয়ে বড় অর্ডার দিয়েছে এয়ার চায়না ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান শেনজেন এয়ারলাইনস। তারা যৌথভাবে ৫৫টি উড়োজাহাজ কিনছে, যার তালিকামূল্য প্রায় ১২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে এয়ার চায়না ১৫টি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ এবং শেনজেন এয়ারলাইনস ৪০টি এ৩২০নিও পরিবারের ন্যারোবডি উড়োজাহাজ সংগ্রহ করবে।
অন্যদিকে, হাইনান এয়ারলাইনস পৃথকভাবে ৪০টি এ৩২০নিও উড়োজাহাজ কিনছে। এ চুক্তির সর্বোচ্চ মূল্য ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।
এয়ার চায়না জানিয়েছে, ২০৩০ থেকে ২০৩২ সালের মধ্যে নতুন এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ সরবরাহ করা হবে। এগুলো দূরপাল্লার বহর সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক রুটে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পুরোনো উড়োজাহাজ পর্যায়ক্রমে প্রতিস্থাপনে ব্যবহৃত হবে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে এয়ার চায়না গ্রুপের মোট যাত্রী ও কার্গো পরিবহন সক্ষমতা প্রায় ৭ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে সংস্থাটির ধারণা।
শেনজেন এয়ারলাইনসের ৪০টি এ৩২০নিও উড়োজাহাজ ২০২৯ থেকে ২০৩২ সালের মধ্যে এবং হাইনান এয়ারলাইনসের ৪০টি এ৩২০নিও উড়োজাহাজ ২০২৮ থেকে ২০৩২ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে সরবরাহ করা হবে। নতুন বহর দেশীয় ও আঞ্চলিক রুট সম্প্রসারণের পাশাপাশি পুরোনো উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপনেও ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে আর্থিক চাপের মধ্যেও এয়ার চায়না এই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটি সম্প্রতি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে তাদের নিট লোকসান সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইউয়ান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্ডারগুলো চীনা এয়ারলাইনসগুলোর বহর আধুনিকায়নের কৌশলকে আরও জোরদার করেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ বাজারে এয়ারবাসের জন্য চীনের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বও নতুন করে তুলে ধরেছে।