https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
সরকার দেশের প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (২৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে বলে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাবে উঠে এসেছে। এসব গোপন বন্দিশালা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পেয়েছিল। গুমের মতো ঘটনা অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক।
তিনি বলেন, গুম বা ‘এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর একটি এবং এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে। অনেক সময় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সরকারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাদের দমনে এ পথ বেছে নেয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পতিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমনে গুম-অপহরণের পথ বেছে নিয়েছিল। মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর মানুষকে আটক রাখার জন্য গড়ে তোলা হয়েছিল গোপন বন্দিশালা।
গুম প্রতিরোধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়নের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে ইতোমধ্যে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। বিলগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে গুম ও অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, গুম শুধু একজন মানুষের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া নয়; এর সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎও থমকে যায়। নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটায় এবং স্বাভাবিকভাবে শোক পালনের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর সৌভাগ্যক্রমে কয়েকজন গুমের শিকার ব্যক্তি ফিরে এসেছেন। তবে ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমসহ অসংখ্য মানুষের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তিনি উল্লেখ করেন, আইসিসির রোম সংবিধির ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তাই গুমের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র বা সরকারের মাধ্যমে সংঘটিত গুম ও এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে জাগ্রত রাখতে আন্তর্জাতিকভাবে ঐক্য ও সংহতি প্রয়োজন।
তিনি এ অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানান।