ঢাকা
৩১ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
অনলাইন ব্যবসা তদারকিতে ই-কমার্স কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ খুলনায় অসুস্থ শিক্ষার্থীর চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড, পাশে জুবাইদা রহমান থার্ড টার্মিনাল চালুতে অতিরিক্ত ৯০২ কোটি টাকা প্রয়োজন : বিমানমন্ত্রী জিসান হত্যা মামলায় শেখ হাসিনা-জয়সহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গুমের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে : রাষ্ট্রপতি ট্রেনে সুটকেসে নারীর খণ্ডিত মরদেহ, ২৪ দিন পর গ্রেপ্তার দম্পতি ভূমি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ, ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন ভূমিমন্ত্রী সাগর-রুনি হত্যায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক ব্যক্তির যোগসূত্রের তথ্য হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু নেপালে বন্যার ধ্বংসস্তূপের নিচে ৩ দিন, জীবিত উদ্ধার ৬ বছরের শিশু

ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলভাণ্ডারে নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক রিপোর্ট
শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬   ৫ বার পঠিত
ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলভাণ্ডারে নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: -সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলভাণ্ডারের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দেশটির প্রমাণিত তেলসম্পদের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিতে বেসরকারি খাতের মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগানো হবে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার ক্ষতিগ্রস্ত তেলশিল্প পুনরুজ্জীবিত এবং যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর লক্ষ্যও রয়েছে।

তবে এই উদ্যোগের আওতায় ঠিক কী ধরনের চুক্তি হয়েছে, কোন কোন তেলক্ষেত্র বা প্রতিষ্ঠান এতে যুক্ত এবং কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথের সমন্বয়ে এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি প্রমাণিত তেলের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে আলোচনা চলছিল। প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন তেলক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার পেতে পারে। দেশটির কর্মকর্তারা আগামী সপ্তাহে নতুন তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের অধিকার দিতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রগুলো সম্ভাব্য মার্কিন উৎপাদকদের কাছে ইজারা দেওয়ার জন্য নিলামে তোলার একটি মডেলও বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে দেশটির সংবিধানে তেলশিল্পে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বিধান থাকায় এ উদ্যোগ আইনি ও সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রমাণিত তেলসম্পদের অধিকারী ভেনেজুয়েলা। কিন্তু দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ, অব্যবস্থাপনা ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির তেল উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম। বর্তমানে দেশটি দৈনিক প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করছে।

মার্কো রুবিও চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা—দুই দেশের জন্যই লাভজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র স্থিতিশীল ও কম খরচে তেল পাবে এবং দেশটিতে জ্বালানির দাম কমাতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ ও হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজও চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার দাবি, ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্রের উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হবে এবং দেশটির জন্য প্রায় ২০৯ বিলিয়ন ডলার কর রাজস্ব তৈরি হতে পারে।

গত জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। এরপর থেকেই দেশটির তেলশিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বাড়ানোর উদ্যোগ আরও জোরালো হয়েছে।